সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি: লাগাতার তিন বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজ্য স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে অ্যাথলেটিক্সে পদক জিতে আনলেও আগামীদিনে প্রশিক্ষণ এবং খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে ধূপগুড়ির (Dhupguri) কিশোর সবুজ শীল ও তার পরিবার। ধূপগুড়ি আরআর প্রাইমারি স্কুলের পাঠ চুকিয়ে এবারই ধূপগুড়ি হাইস্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হয়েছে সবুজ৷ গত ৯ ও ১০ জানুয়ারি কলকাতার বাণীপুরে অনুষ্ঠিত ৪১তম রাজ্য প্রাথমিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ইভেন্টে গ বিভাগের ১০০ মিটার রেস এবং হাইজাম্পে সোনা জেতার পাশাপাশি রিলে রেসে জলপাইগুড়ি জেলা দলের হয়ে সোনা জিতেছে সবুজ।
সবুজের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। সেবার তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া হিসেবে খ বিভাগে রাজ্য স্তরে হাইজাম্পে তৃতীয় এবং ১০০ মিটার দৌড়ে দ্বিতীয় হয় সে। এরপর গতবছর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র হিসেবে গ বিভাগে হাইজাম্পে রাজ্যসেরা হয় সবুজ। গতবছর মেদিনীপুরে অনুষ্ঠিত রাজ্য স্পোর্টসে অল্পের জন্য হাতছাড়া হয় ১০০ মিটারের পদক। এবার তার তৃতীয় তথা প্রাথমিক পড়ুয়া হিসেবে শেষ রাজ্য প্রতিযোগিতায় তিন তিনটে সোনা জয় তাক লাগিয়েছে সবাইকে। পরপর তিনবার রাজ্য স্তরে সাফল্য প্রসঙ্গে সবুজের মন্তব্য, ‘সারা বছর প্র্যাকটিস দরকার। আমাদের এখানে সেটার সুযোগ নাই। স্কুলের স্যরদের সহযোগিতার জন্যই আমি খেলতে পারলাম। এরপর কী হবে জানি না।’
ধূপগুড়ি শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দপল্লির বাসিন্দা সবুজ। বাবা শংকর শীল পেশায় ব্যবসায়ী। রাজ্য স্তরে ছেলের লাগাতার তিন বছরের সাফল্যে গর্বিত হলেও আর্থিক কারণেই আগামীদিনে ছেলের প্রশিক্ষণ নিয়ে চিন্তিত তিনি। অন্যদিকে, ছাত্রের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সবুজের স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ‘সবুজ যে বিরল ক্রীড়া প্রতিভা সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগামীদিনে সরকারি স্তরে ওর উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হলে রাজ্য তথা দেশ বড় মাপের অ্যাথলিট পাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। কেন্দ্রীর সরকারের সাই কিংবা রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কীভাবে ওর ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়, তার চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।’

