মুম্বই: কথা দিয়েছিলেন। কথা রেখেওছিলেন। অবশ্য মাঝে দেড় দশক পার! গুরুশরণ সিংকে নিয়ে এমনই মজার গল্প শুনিয়েছেন শচীন তেন্ডুলকার। শুধু কথা রাখা নয়, শোধ করেছিলেন গুরুশরণের ঋণও। ইরানি ট্রফির ম্যাচ। অবশিষ্ট ভারতীয় একাদশের হয়ে খেলছিলেন শচীন। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার ক্ষেত্রে যে ম্যাচ কার্যত ‘অ্যাসিড টেস্ট’ ছিল। দলের নবম উইকেট যখন পড়ে, শচীন ৮৫ রানে খেলছিলেন।
তরুণ সতীর্থের শতরান পূরণের জন্য ভাঙা হাত নিয়ে নেমেছিলেন গুরুশরণ। শেষপর্যন্ত শচীন সেঞ্চুরি করেন এবং পরপর জাতীয় দলে ডাক। ১৯৯০ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় দলে ছিলেন গুরুশরণও। শচীন তখন কথা দিয়েছিলেন, গুরুশরণের বেনেফিট ম্যাচে খেলবেন। দেড় দশক পর ২০০৫ সালে সেই বেনিফিট ম্যাচ হয়। যেখানে সতীর্থের ডাকে সাড়া দিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ততদিনে কিংবদন্তি হয়ে যাওয়া মাস্টার ব্লাস্টার।
গতকাল মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে সেই স্মৃতিরোমন্থন করে শচীন বলেছেন, ‘জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার ক্ষেত্রে ওটা কার্যত ট্রায়াল ম্যাচ ছিল। গুরুশরণ ভাঙা হাত নিয়ে খেলে আমাকে সেঞ্চুরি করতে সাহায্য করেছিলেন। ওর যে প্রচেষ্টা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। পরে জাতীয় দলে ডাক পাই। ওকে জাতীয় দলের সতীর্থ হিসেবে পেয়েছি।’
শচীন আরও বলেছেন, ‘ওইসময় অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের বেনিফিট ম্যাচ হত। নিউজিল্যান্ড সফরের সময় গুশিকে (গুরুশরণ সিং) বলেছিলাম, তুমি যখন অবসর নেবে, তোমার বেনিফিট ম্যাচ হবে আমি খেলব। ১৫ বছর পর ফোন করে আমাকে বেনিফিট ম্যাচের কথা বলে। খেলেছিলাম আমি। পুরোনো সেই স্মৃতি এখনও আমার কাছে তরতাজা। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, কথা দিয়ে কথা রেখেছিলাম।’
এদিকে, নভজ্যোৎ সিং সিধু আবার শচীনকে নিয়ে অন্য মজার গল্প শুনিয়েছেন। স্পিন-দুর্বলতা কাটাতে নাকি ডিনার টেবিলেও সুইপ করতেন মাস্টার ব্লাস্টার! প্রাক্তন ওপেনার সিধু বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট। সনৎ জয়সূর্য লেগসাইডে একনাগাড়ে বল করে যাচ্ছিল শচীনকে। ও তখন সুইপ মারত না। পুল করতে গিয়ে আউট হয়। হতাশায় সবাই টিমবাসে উঠে পড়লেও শচীন ঠাঁই সাজঘরে! ওকে ডেকে ব্যাপারটা হালকা করি।’
শচীন যদিও বিষয়টিকে হালকাভাবে নেননি। নেটে ১০ জন বাঁহাতি স্পিনারকে ডেকে নিয়ে সকাল সাতটা থেকে একটানা সুইপ শট প্র্যাকটিস। সিধুর কথায়, ‘এর আগে কখনও সুইপ করতে দেখিনি ওকে। সারাক্ষণ সুইপ করে গেল। এমনকি ডিনার টেবিলেও! কাটা চামচ নিয়েও সুইপ করছিল শচীন! আমাদের সঙ্গে সঞ্জয় মঞ্জরেকার, অজয় জাদেজাও ছিল। প্রত্যেকেই অবাক। আসলে স্বপ্ন দেখলেই শুধু হয় না, তা সফল করার তাগিদ থাকা দরকার। শচীন সবার কাছে এই ব্যাপারে উদাহরণস্বরূপ।’

