তুফানগঞ্জ: কোচবিহারের রাজনীতিতে নগেন রােয়র অবস্থা যেন ঠিক ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো’। তিনি একদিকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ হয়েও দলের প্রচারে থাকছেন না, আবার বিজেপির সঙ্গে সখ্য ঠিকঠাক রাখতে কোচবিহার শহরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যেমন ছিলেন তেমনি বুধবার তুফানগঞ্জের আরএমসি গ্রাউন্ডে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা’র সভাতেও তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিজেপির অন্দরেই যথেষ্ট প্রশ্ন উঠেছে। নীচুতলার অনেকের প্রশ্ন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী অথবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভায় তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেখানে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে কেন তিনি নিজেকে আড়াল করে রাখছেন?


এদিন আরএমসি ময়দানে তুফানগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী মালতী রাভা রায় ও নাটাবাড়ির প্রার্থী গিরিজাশংকর রায়ের সমর্থনে জনসভায় উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দলীয় নেতা-নেত্রীদের নাম ঘোষণা করলেও গ্রেটার নেতা নগেন বা বংশীবদন বর্মনের নাম একবারের জন্যও উচ্চারণ করেননি।কোচবিহারে রাজবংশী ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে শুরুতেই বীরসেনা চিলারায়কে স্মরণ করেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি রাজবংশী বীরত্বের ইতিহাসকে সম্মান জানাতে স্টেট রিজার্ভ পুলিশে ‘নারায়ণী সেনা’র নামে একটি বিশেষ ব্যাটালিয়ন গঠনের আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, কোচবিহার শহরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে বংশীবদন ও নগেনকে। প্রতিদিনই জেলায় বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারে বংশীবদনের উপস্থিতি লক্ষ করা গেলেও রাজ্যসভার সাংসদ নগেনকে সেভাবে প্রচারে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ নীচুতলার কর্মীদের একাংশের।
এক বিজেপি কর্মী প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি শুধুমাত্র প্রথম সারির নেতাদের কাছে নিজের ইমেজ ধরে রাখাই নগেনের লক্ষ্য? তঁার বক্তব্য, দলের ফলাফল এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই? তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন, তাহলে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারেও তাঁকে সক্রিয় করা হোক। যদিও রাজবংশী দুই হেভিওয়েট নেতার নির্বাচিন জনসভায় উপস্থিতি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি বিজেপি প্রার্থী মালতী।
এ ব্যাপারে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি উজ্জ্বলকান্তি বসাক বলেন, ‘নগেন বিজেপির সাংসদ, অন্যদিকে বংশীবদন সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কাজেই তঁারা সবাই উপস্থিত থাকবেন এমনটাই স্বাভাবিক। আমরা আশাবাদী দুই নেতার সমর্থকরাও বিজেপিতে ভোট দেবেন। কাজেই রেকর্ড ভোটে তৃণমূলকে পরাস্ত করা শুধু সময়ের অপেক্ষা।’
এদিকে নাটাবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গিরিজাশংকর রােয়র বক্তব্য, ‘শুধু রাজবংশী নয়, অরাজবংশী ভোটাররাও বিজেপিকে ঢেলে ভোট দেবেন। মানুষ তৃণমূলের শাসন থেকে মুক্তি চাইছেন।’ নগেনের রাজনীতির ময়দানে না থাকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘উনি কেন ময়দানে নামছেন না তার উত্তর তিনিই দিতে পারবেন। তবে এর প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে না।’

