উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: লিবিয়ার (Libya) দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির (Muammar Gaddafi) উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত সইফ আল-ইসলাম গদ্দাফি (Saif al-Islam Gaddafi) খুন হলেন। মঙ্গলবার তাঁর রাজনৈতিক দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৫৩ বছর বয়সি এই নেতার। লিবিয়ার টালমাটাল রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সূত্রের খবর, পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে সইফ আল-ইসলামের বাসভবনে চারজন সশস্ত্র আততায়ী অতর্কিতে হামলা চালায়। তাঁর আইনজীবীর দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সইফ আল-ইসলামের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান জানিয়েছেন, সরাসরি সংঘর্ষের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভিন্ন মত উঠে আসছে। সইফের আইনজীবী জিনতানে মৃত্যুর কথা বললেও, তাঁর বোন লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন যে, আলজেরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গদ্দাফির পতনের পর সইফ আল-ইসলামকে বন্দি করা হয়েছিল। প্রায় এক দশক নিভৃতে থাকার পর তিনি ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নিজের নাম ঘোষণা করেন। লিবিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ এবং স্কটল্যান্ডে বিমান হামলার ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একসময় তাঁকে লিবিয়ার ‘সংস্কারবাদী’ মুখ হিসেবে দেখা হত। লিবিয়ার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সইফ অল-ইসলামের এই মৃত্যু জাতীয় নির্বাচনে বড়সড়ো প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

