সান ফ্রান্সিসকো: আমেরিকার রাজনীতির গা থেকে এখনও ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানির ‘গন্ধ’ যায়নি। তার মধ্যেই এবার সেদেশের রাজনীতিতে এক বাঙালির উত্থানের গল্প সামনে আসছে। সিলিকন ভ্যালির জৌলুস ছেড়ে মার্কিন কংগ্রেসে পা রাখার স্বপ্ন দেখছেন সৈকত চক্রবর্তী (Saikat Chakrabarti)। টেক্সাসে জন্ম হলেও, তাঁর শিকড় কিন্তু গাঁথা রয়েছে বাঙালিয়ানায়। ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট মহলে। সান ফ্রান্সিসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিকভাবে ডেমোক্র্যাট-দুর্গ আসন থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়া কার্যত সময়ের অপেক্ষা। আর এই দৌড়ে সৈকতের প্রধান শক্তি তাঁর স্পষ্টবাদী প্রগতিশীল চিন্তাধারা এবং ঐতিহ্যবাহী বাঙালি চেতনা।
এক সপ্তাহ আগেই নিউ ইয়র্কে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক জয় প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের মনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। সৈকতের জন্য সেই আশা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আসনটি ধরে রেখেছিলেন প্রভাবশালী নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি। সম্প্রতি তিনি অবসর ঘোষণা করেছেন। পেলোসির ছেড়ে যাওয়া আসনের দখল নিতেই ময়দানে নেমেছেন ৩৯ বছর বয়সি সৈকত।
সৈকতের জন্ম টেক্সাসের এক বাঙালি পরিবারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় হয়েছেন। পড়াশোনা করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রি রয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে একটি টেক স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে বিখ্যাত আর্থিক পরিষেবা সংস্থা স্ট্রাইপেও কাজ করেছেন। রাজনীতির আঙিনায় তাঁর প্রবেশ ২০১৫ সালে। যুক্ত হন প্রবীণ ডেমোক্র্যাট নেতা বার্নি স্যান্ডার্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনি প্রচারে। সেক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপনে তাঁর দক্ষতা ছিল নজরকাড়া। স্যান্ডার্স সফল না হলেও, সৈকত তাঁর প্রতিভার ছাপ রেখে যান। এরপর তিনি ‘জাস্টিস ডেমোক্র্যাটস’ নামে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সেই সংগঠনের লক্ষ্য ছিল তরুণ ও নতুন প্রগতিশীল প্রার্থীদের কংগ্রেসে নিয়ে আসা।
২০১৮ সালে সৈকতের নাম রাজনীতির জাতীয় স্তরে উঠে আসে। নিউ ইয়র্ক আসনে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ-এর সফল নির্বাচনি প্রচারের তিনিই ছিলেন মূল কান্ডারি। এই জয় তাঁকে প্রগতিশীল মহলে ‘পরিবর্তনের মুখ’ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে।
তাঁর বর্তমান লক্ষ্য, ডেমোক্র্যাট পার্টির চিরাচরিত ভাবমূর্তিতে আমূল পরিবর্তন আনা। সৈকত সরাসরি সম্পত্তি কর বসানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেও কর দিতে প্রস্তুত।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসে পাঁচজন ভারতীয়-আমেরিকান সদস্য রয়েছেন। আগামী বছর জুনের মধ্যে জানা যাবে, সৈকত ষষ্ঠ ভারতীয়-আমেরিকান, তথা এক বাঙালি-আমেরিকান হিসাবে ইতিহাস তৈরি করতে পারবেন কি না।

