উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যোগ হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। আগামী ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের লক্ষ্যে বুধবার দুপুরে নবান্নে পৌঁছালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের বিজেপি পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং সৌমিত্র খাঁ। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তাঁরা।
শনিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah)। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার কে, তা নিয়ে কৌতূহল চরমে থাকলেও দলের তরফে এখনও কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সূত্রের খবর, ব্রিগেডের নিরাপত্তা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত সামলাতে প্রশাসনিক স্তরে সবরকম সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপি বিধায়কদের একটি বিশেষ বৈঠকও ডাকা হয়েছে।


নবান্নে প্রবেশের আগে শমীক ভট্টাচার্য দলের শৃঙ্খলা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপিতে কোনোভাবেই ‘তৃণমূলীকরণ’ বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, একদল ‘নব্য বিজেপি’ তৈরি হয়েছে যারা আসলে তৃণমূল থেকে এসে অশান্তি পাকাচ্ছে। শমীক বলেন, “যাঁরা নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে ১৯৮০-৯০ সাল থেকে দলটাকে তৈরি করেছেন, তাঁদের স্বার্থ আগে। সুবিধাবাদীদের আমরা বিদায় জানাব।”
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হয়ে বিজেপি সভাপতি দাবি করেন, বর্তমানে যা অশান্তি হচ্ছে তা আসলে ‘তৃণমূল বনাম তৃণমূল’-এর লড়াই। বিজেপির পতাকা নিয়ে কেউ যদি আক্রমণ চালায়, তবে তার দায় দল নেবে না। এমনকি কোনো বিজেপি নেতা যদি উস্কানি দেন, তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের ছবি ও নাম দিন, আমি ব্যবস্থা নেব। না পারলে সভাপতির পদ ছেড়ে দেব।”
রাজ্যে ক্ষমতার এই সন্ধিক্ষণে রাজপথ থেকে নবান্ন—সর্বত্রই এখন টানটান উত্তেজনা। ৯ তারিখের সকালে ব্রিগেডের মঞ্চে বাংলার ভাগ্যবিধাতা হিসেবে কার অভিষেক ঘটে, এখন সেটাই দেখার।

