খড়িবাড়ি: খড়িবাড়ি (Khoribari) ডুমুরিয়া নদী খুঁড়ে দেদারে বালি লুট! লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছে বালি মাফিয়াদের সিন্ডিকেট। কার্যত ‘অন্ধের’ ভূমিকায় প্রশাসন! দিনের পর দিন এমন ঘটনা ঘটতেই উঠল প্রশ্ন।
খড়িবাড়ি ব্লকের বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত দিয়ে বয়ে গিয়েছে ডুমুরিয়া নদী। ডুমুরিয়া নদীর কোনও ঘাটেরই সরকারি লিজ নেই। অথচ এই নদীর চুচুরমুচুর, গুয়াবাড়ি, তেলেঙ্গাজোত, গাইনজোতের ঘাট থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি, পাথর, মাটি দিনের পর দিন লুঠ করছে মাফিয়ারা। বিকেল ৪ টে থেকে রাতভর বালি মাফিয়াদের সিন্ডিকেট কার্যত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নদীতে। অবৈধভাবে বালি, পাথর, মাটি তুলে বড়বড় ডাম্পারে পাচার করা হচ্ছে প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে। এ নিয়েই ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসীরা।
খড়িবাড়ি থানঝোরা চা বাগানের বাসিন্দাদের অভিযোগ, শতাধিক ট্রাক্টর, জেসিবি, ডাম্পার দিয়ে রাতভর বালি লুঠ চলে। এরফলে এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ। দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সংকট। নিত্যদিনের এই অরাজকতা নিয়ে বহুবার প্রশাসনের কাছে দরবার করেও কোনও লাভ হয় হয়নি। প্রশাসন সব জেনেও নীরব থাকেন।
এদিকে খড়িবাড়ির বিএলআরও (BLRO) ছুটিতে রয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত রেভিনিউ অফিসার কুনাল সেওয়ারের যুক্তি, ‘অবৈধভাবে বালি উত্তোলন হচ্ছে অফিস টাইমের পরে। আমি পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাব। সবটা খটিয়ে দেখব।’
বিজেপির (BJP) শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার কার্যকরী কমিটির সদস্য কল্যাণ প্রসাদের দাবি, ‘শাসকদল ও প্রশাসন একযোগে লুঠের ব্যবসা শুরু করেছে। দ্রুত এই অবৈধ কারবার বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আগামীতে বিরাট বিপদ হবে।’
তৃণমূলের (TMC) খড়িবাড়ি ব্লক সভাপতি কিশোরীমোহন সিংহ বলেন, ‘অবৈধভাবে বালি তোলা ঠিক নয়। শাসকদল বলে এখানে কিছু নেই। তৃণমূলের কেউ এতে জড়িত নয়। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করবে বলে আমি আশাবাদী।’

