প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: উপসাগরীয় সংঘর্ষের উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল বর্ধমানের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে। জ্বালানি সংকটের জেরে বন্ধ হতে চলেছে বর্ধমানের (Bardhaman News) অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের (Sarbamangala Temple Bardhaman) প্রাত্যহিক ভোগ বিতরণ। বৃহস্পতিবার মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে ভক্তদের জন্য ভোগ রান্না ও বিতরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
ঐতিহ্যে সংকটের ছায়া
১৭০২ খ্রিষ্টাব্দে রাজা কীর্তিচাঁদ মহতাব নির্মিত এই নবরত্ন মন্দিরটি অবিভক্ত বাংলার অন্যতম পবিত্র শক্তিপীঠ। প্রায় ১০০০ বছরের পুরনো দেবী সর্বমঙ্গলার শিলামূর্তি দর্শনে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। দীর্ঘকাল ধরে মন্দিরে আগত কয়েকশ ভক্তকে অন্নভোগ দেওয়ার রীতি চলে আসছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাবে তৈরি হওয়া এলপিজি (LPG) গ্যাস সিলিন্ডারের অভাব সেই রীতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াল।
প্রতিদিনের ভোগ ও ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত
মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সঞ্জয় ঘোষ জানান, “প্রতিদিন গড়ে ৪০০ জনের ভোগ রান্না করা হয়। এর জন্য গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি করে গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন। ৩০০ জন ভক্ত মন্দির চত্বরে বসে প্রসাদ পান এবং ১০০ জন মালসা ভোগ বাড়ি নিয়ে যান। ৫০ ও ৬০ টাকার বিনিময়ে কুপন প্রথা চালু থাকলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মেলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই নিরুপায় হয়েই আমরা ভোগ রান্না স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ভক্তদের উদ্বেগ
মন্দিরে পুজো দিতে আসা ভক্তদের কথায় ফিরে এসেছে অতিমারী কোভিডের স্মৃতি। সেই সময় সংক্রমণের কারণে মন্দিরে তালা পড়েছিল এবং বন্ধ হয়েছিল অন্নভোগ। এবার কোনো মহামারী নয়, বরং বিদেশের সংঘর্ষের প্রভাবে জ্বালানি সংকটে মন্দিরের হেঁশেলে তালা ঝোলায় হতাশ স্থানীয় বাসিন্দা ও পুণ্যার্থীরা। প্রধান পুরোহিত অরুণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, “জ্বালানির সংকট না মেটা পর্যন্ত শুধূমাত্র মায়ের ভোগটুকুই রান্না করা হবে। মন্দিরে আসা পুণ্যার্থী ও ভক্তদের জন্য ভোগ রান্না এখন বন্ধ থাকবে।“

