উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শাড়ি পরতে কে না ভালোবাসেন! ডিজিটাল যুগের বর্তমান প্রজন্মের কাছেও শাড়ির আবেদন ম্লান হয়নি। যাঁরা কাঁসার থালায় খাসির মাংস আর ভাতের স্বাদ নিতে পাঁচতারা রেস্তোরাঁ খোঁজেন, সেই তরুণীরাও পাশ্চাত্য পোশাকের ভিড়ে শাড়িকে নিজস্ব উত্তরাধিকার হিসেবে টিকিয়ে রেখেছেন। তবে এই ঐতিহ্যের সমান্তরালে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ইদানীং এক নতুন আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছে। শাড়িকে কেন্দ্র করে জন্ম নিয়েছে এক ব্যাধি, যার নাম ‘শাড়ি ক্যানসার’ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘পেটিকোট ক্যানসার’ (Petticoat Cancer)। লিখেছেন এমজেএন মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়া অনিশ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এমনিতে ক্যানসার শব্দটা শুনলেই মনে যেন ভয় ধরে। তার ওপর শাড়ি ক্যানসার! আসলে এ এক বিরল ধরনের চর্ম ক্যানসার। ত্বকের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে এমন যে কোনও বিষয় দীর্ঘমেয়াদে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অনেক মহিলার ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোমরের নির্দিষ্ট অংশে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত শক্ত করে পেটিকোটের ফিতে বাঁধার ফলে সেখানে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। এই দীর্ঘস্থায়ী চাপের ফলে ত্বকের সেই অংশে ‘স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা’ নামক ক্ষত তৈরি হতে পারে। গ্রীষ্মপ্রধান আর্দ্র আবহাওয়া এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া বাঙালি নারীদের রক্তাল্পতার সমস্যাও এই রোগের জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির ফলে ক্যানসার এখন আর আগের মতো অপরাজেয় কোনও আতঙ্ক নয়। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নানাবিধ ওষুধ ও নিরাময়ের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। কিন্তু সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই। বর্তমানে কোমরের বন্ধনীতে বোতাম বা স্থিতিস্থাপক ইলাস্টিক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পেটিকোটের ফিতেই নয়, টাইট ইলাস্টিক পেটিকোট, টাইট জিনস কিংবা ধুতিও যদি কষে বঁাধেন তাহলেও ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। তাই স্নান ও নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমেই যে কোনও চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
পরিশেষে বলব, অতি সচেতনতার আড়ালে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও আভিজাত্য যেন হারিয়ে না যায়। হাজার বছর পরেও মায়েদের হাত ধরেই নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে শাড়ির ঐতিহ্য। বিবিধ সংস্কৃতির আদানপ্রদানে সমৃদ্ধ হোক বাঙালির এই শাশ্বত উত্তরাধিকার।
এই অংশটা গ্রাফিকসের মতো করে সাজাতে হবে
পেটিকোট ক্যানসার কী
পেটিকোট ক্যানসার বা মার্জোলিন আলসার ত্বকের একধরনের ক্যানসার, যা ক্রনিক জ্বালা ও ঘর্ষণের কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত, ত্বকের কোনও ক্ষতি হলে বা জ্বালাযন্ত্রণা হলে নিজে েথকেই সেরে যায়। কিন্তু যদি ক্রমাগত ত্বকে ঘর্ষণ হতে থাকে বা চাপ পড়ে, যেমন শাড়ি পরার ক্ষেত্রে নিয়মিত পেটিকোট টাইট করে বাঁধার ফলে কোমরের ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও ঘা তৈরি হয় যা আর নিরাময় হয় না। বারেবারে এই ধরনের ঘা হলে কিছু ক্ষেত্রে তা ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
কারণ
- পেটিকোটের শক্ত দড়ি থেকে ঘষা লেগে ত্বকে চুলকানি
- ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালা
- ঘাম ও আর্দ্রতা জমে থাকা
উপসর্গ
- কোমরের চারপাশের ত্বক কালো হয়ে যাওয়া
- রুক্ষ্ম, শুষ্ক, খসখসে ত্বক
- কিছু ক্ষেত্রে স্কোয়ামস সেল কার্সিনোমা হওয়ার ঝঁুকি থাকে
প্রতিরোধের উপায়
- টাইট পেটিকোট পরবেন না
- দীর্ঘক্ষণ শাড়ি পরে থাকতে হলে পেটিকোটের দড়ি আলগা করে রাখুন
- নরম কাপড়ের পেটিকোট ব্যবহার করুন
- স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন
- কোমরের বন্ধনীতে বোতাম বা স্থিতিস্থাপক ইলাস্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে
- কোমরের ত্বকের অংশের রং বদল হচ্ছে কি না নজর রাখুন

