কুমারগঞ্জ: বিদ্যুতের বিপুল বিল মেটাতে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া কুমারগঞ্জের দরিদ্র আদিবাসী বাসিন্দা বিশান হেমব্রম ও তাঁর স্ত্রীর পাশে দাঁড়াল কুমারগঞ্জ ব্লক প্রশাসন (Kumarganj)। আজ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা। পরে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে যান কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাসের কাছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলাপরিষদের সদস্য শুখলাল হাঁসদা।
জানা গেছে, বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন বিশান হেমব্রম। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের জমি বিক্রি করতে হয়। বিষয়টি জানার পরই উদ্যোগী হন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা। তিনি বিডিওর কাছে অনুরোধ জানান যাতে বিশানের বাড়ির বিদ্যুতের বিলে ধার্য সুদ মুকুব করা হয়।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনে বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস সঙ্গে সঙ্গেই কুমারগঞ্জ বিদ্যুত দপ্তরের স্টেশন ম্যানেজার নাজমুল হকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। আলোচনার পর স্টেশন ম্যানেজার জানান, এই মুহূর্তে সুদের টাকা সরাসরি ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আপাতত বিশান হেমরম ৩৪,৮০০ টাকা মূল্যের বিদ্যুৎ খরচ করতে পারবেন, যার জন্য কোনো মূল্য দিতে হবে না। অর্থাৎ যতদিন এই পরিমাণ ইউনিট ব্যবহার করবেন, ততদিন তাঁকে আর বিদ্যুতের বিল দিতে হবে না এই আশ্বাস দেন তিনি।
এর পাশাপাশি বিডিও (BDO) শ্রীবাস বিশ্বাস ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরিদ্র আদিবাসী দম্পতিকে ২৪ কেজি করে মোট ৪৮ কেজি চালের টোকেন দেন। সঙ্গে শীতের কথা মাথায় রেখে ত্রিপাল, কম্বল ও কিছু শীতবস্ত্রও তুলে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে সন্তোষ হাঁসদা বলেন, ‘বিষয়টি জানার সময় আমি বাইরে ছিলাম। ফিরে এসেই ওঁদের বাড়িতে যাই। পরিবারটি ভীষণ দরিদ্র ও অসহায়। তাই আজ তাঁদের বিডিও সাহেবের কাছে নিয়ে আসি। প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে।’ বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস জানান, ‘আজ এমনিতেই ওঁদের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। বিদ্যুতের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অধীন, তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ব্লকের পক্ষ থেকেও যতটা সম্ভব সহায়তা করা হয়েছে।’

