উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২২ সালের ৩১ মে। কলকাতার (Kolkata Concert) বুকে অনুষ্ঠান শেষ করার পরই না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়ক কেকে (KK)। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। কিন্তু এই ‘হৃদরোগ’ তত্ত্বটি আজও মেনে নিতে পারেন না তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু শান (Shaan on KK’s Death)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কেকে (KK Death Mystery)-র সুশৃঙ্খল জীবনযাপন নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। শানের প্রশ্ন, যিনি ধূমপান করতেন না, মদ্যপান করতেন না, জীবনযাপনে কোনও অনিয়ম ছিল না— তাঁর কেন হার্ট অ্যাটাক হবে?
শানের কথায়, কেকে ছিলেন অত্যন্ত সংযত। পার্টি করা বা রাতজাগার অভ্যাস তাঁর ছিল না। শান বলেন, “কেকে ধূমপান ও মদ্যপান করত না। এমনকি খাওয়াদাওয়াও ছিল খুব মাপা। ভারী খাবার এড়িয়ে চলত। কোলেস্টেরলের কোনও সমস্যা ছিল না। উল্টে নিয়মিত সাঁতার কাটত, যোগব্যায়াম করত।” এত স্বাস্থ্যসচেতন একজন মানুষের আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়াটা তাই আজও বন্ধুদের কাছে রহস্য।
শান আরও জানান, তিনি নিজে পার্টি করতে ভালোবাসতেন এবং মজার ছলে কেকে-কে অনেকবার ‘বিগড়ে’ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কেকে নিজের নীতিতে অটল ছিলেন। কাজ শেষ হলেই তিনি ছুটে যেতেন পরিবারের কাছে।
কেকে-র মৃত্যুর ঘটনা এতটাই নাড়িয়ে দিয়েছিল শানকে যে তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “কেকে-র মৃত্যুর খবর শুনে আমার পরিবার খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। কারণ, কেকে-র মতো ফিট মানুষের যদি এমন হতে পারে, তবে যে কারও হতে পারে। আমি সঙ্গে সঙ্গে এমআরআই করিয়ে নিই।”
শ্রেয়া ঘোষাল বা সুনিধি চৌহানের চেয়েও কেকে-র সঙ্গে বেশি ডুয়েট গেয়েছেন শান। প্রায় ২০টি গান একসঙ্গে গাওয়ার সুবাদে তাঁদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। শান আক্ষেপের সুরে বলেন, “ও খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল। আমি ওকে দেখে ভাবতাম, ওর মতো হবো। কিন্তু পারিনি। আজও ওর কণ্ঠ আমার কানে বাজে। খবরটা আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি।”
কেকে আজ নেই, কিন্তু তাঁর গান এবং তাঁর সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের স্মৃতি আজও উজ্জ্বল সহকর্মীদের মনে। তবে সেই সঙ্গেই থেকে গেছে একরাশ প্রশ্ন আর অবিশ্বাস— এত নিয়ম মেনেও কেন অকালে চলে যেতে হলো তাঁকে?

