হরিশ্চন্দ্রপুর: বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) প্রাক্কালে মালদার রাজনীতিতে পারদ চড়ল তুঙ্গে। বুধবার চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুরে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করতে এসে একদিকে যেমন তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), তেমনই জনসভার মঞ্চ থেকে অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
এদিন চাঁচলের বড়ুই এলাকায় সভা শেষ করে হরিশ্চন্দ্রপুর যাওয়ার পথে বাস স্ট্যান্ড এলাকায় তৃণমূল (TMC) কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে শমীক ভট্টাচার্যের গাড়ি। ওড়িশায় বাংলার ১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিককে আটকে রাখার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ বলে দাবি তৃণমূলের। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তৎপর হয়। এই নিয়ে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা পবন চক্রবর্তীকে মেজাজ হারাতেও দেখা যায়। যদিও শমীক ভট্টাচার্য সংক্ষপে জানান, “তৃণমূল যা করেছে, ভালো করেছে।” সাংসদ খগেন মুর্মুর দাবি, বিজেপিকে ভয় পেয়েই এই আক্রমণ।


হরিশ্চন্দ্রপুর টাউন লাইব্রেরি ময়দানের জনসভা থেকে শমীক ভট্টাচার্য অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কার্যত ‘বজ্র হুঙ্কার’ দেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ কোনো ধর্মশালা বা কোঠা নয়। যার যখন খুশি ঢুকে পড়বে, এটা হতে দেওয়া যাবে না। ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট— যে যেখান থেকে এসেছে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
রাজ্যের ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি নিয়ে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় দাদুর বয়স ৪২ তো নাতির বয়স ২২। স্বামী-স্ত্রীর বাবা এক! মহাভারতে একজন ধৃতরাষ্ট্র ছিল, এখানে এখন ১১ জন ধৃতরাষ্ট্র। তিন মাস অন্তর অন্তর সন্তান উৎপাদন হচ্ছে। এই ‘এগিয়ে বাংলা’র কারিগরদের কি পদ্মভূষণ দেওয়া যাবে না?”
দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ করে শমীক বলেন, “জগন্নাথ দেব বলছেন তোমরা আমার মাথায় টুপি পরিয়েছ, আমি ছাড়ব না। বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন দিয়েই তবে আমি ফিরব।” তাঁর দাবি, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র বিজেপি সরকার হবে এবং এই ‘দেওয়াল লিখন’ কেউ মুছতে পারবে না। এদিনের সভায় বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের সমর্থনে প্রায় ৫-৭ হাজার মানুষের জমায়েত হয় এবং তৃণমূল-সিপিএম ছেড়ে প্রায় ১৫০ জন কর্মী বিজেপিতে যোগ দেন।

