উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত ভাঙড়ের রাজনীতি। এবার সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লা (Shaukat Molla)। তাঁর দাবি, যেসব অঞ্চলে তৃণমূল হারবে, সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা আবাস যোজনার মতো সরকারি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল (Political Controversy) পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে।
রবিবার ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জে একটি দলীয় প্রস্তুতি সভায় যোগ দিয়েছিলেন শওকত। সেখান থেকেই তিনি সুর চড়িয়ে দাবি করেন, ভাঙড়ের যে তিনটি অঞ্চলে তৃণমূল আইএসএফ-এর কাছে হেরেছে (চালতাবেড়িয়া, শানপুকুর ও পোলেরহাট-১), সেখানে ইতিমধ্যেই আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা দেবেন আর তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হবে? দাদার খাবে আর মামার গাইবে— এটা হবে না। বাপের ব্যাটা হলে সেই টাকা উদ্ধার করে নাও।” এখানেই শেষ নয়, সিএমআরও (CMRO) তালিকায় থাকা আইএসএফ কর্মীদেরও যাতে কোনো সরকারি সুবিধা না দেওয়া হয়, সেই মর্মে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।
শওকতের এই মন্তব্যে শাসক দল তৃণমূলের ভেতরেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের রাজ্য মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ স্পষ্ট জানান, “এটি দলের অবস্থান নয়, ওঁর ব্যক্তিগত মত। আলিপুরদুয়ার বা পূর্ব মেদিনীপুরের মতো যেসব জায়গায় আমরা হেরেছি, সেখানেও পরিষেবা সচল রয়েছে। ওঁর সঙ্গে দল কথা বলবে।”
বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কড়া ভাষায় শওকতকে আক্রমণ করে বলেন, “এবার ভোটে তৃণমূল হারলে এই নেতাদের বাড়িকেও মানুষ শৌচালয় হিসেবে ব্যবহার করবে।” অন্যদিকে আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, শওকত মোল্লা ভয় পেয়ে এখন উন্নয়নের বদলে সাধারণ মানুষকে ধমক দিচ্ছেন।
বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধির পর যখন তৃণমূল সরকার একে বড় প্রচার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, ঠিক তখন দলেরই এক প্রভাবশালী নেতার এমন ‘হুমকি’ সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

