পরশপাথর

শেষ আপডেট:

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

মেজোবাবুর মুখটা আজ কেমন যেন মরা ভেটকির মতো দেখাচ্ছে। অন্যদিন এরকমটা থাকে না। বিশেষ করে যেদিন দু’একটা শাঁসালো পার্টি ধরা থাকে সেদিন তো মনে হয়, চোখমুখ থেকে পয়রা গুড় গড়িয়ে পড়ছে।  আসলে ব্যাপারটা একটু গোলমেলে। এই থানায় একটা গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ করা হয়। মোটামুটি বড়সড়ো উপরি বা চাঁদা যা ওঠে তা জমা থাকে। পরে তা বিভিন্ন পদ অনুযায়ী ভাগ হয়। এই ঝামেলার কাজটা শুরু করেছিলেন এক বড়বাবু, প্রায় বছর বারো আগে। তারপর থেকে এটাই চলছে। হিসেব রাখার দায়িত্বটা থাকে মেজোবাবুর কাঁধে। এদিকে, গত মাসে থানায় যে উপরি উঠেছিল, তার হিসেবটা ঠিকমতো মিলছে না। এতেও বিশেষ কিছু সমস্যা হত না, যদি না ওই ছোকরা কনস্টেবল, সুবল হাজরা পরশু বিকেলে কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বেমক্কা প্রশ্নটা করে বসত।

-স্যর, এ মাসের হিসেবটা কি এখনও মিলল না?

ব্যাস। এইটুকুই প্রশ্ন। কিন্তু এই আপাত ক্ষুদ্র প্রশ্নের মধ্যে যে এক মহাজাগতিক জিজ্ঞাসাও লুকিয়ে আছে, সেটা কি আর বোঝেন না মেজোবাবু? আর যাই হোক টাকা মেরে দেওয়ার অপবাদ অরুণ কাঞ্জিলাল কিছুতেই সহ্য করতে পারেন না। তা-ও কিনা থানার উপরির টাকা? এমন অসৎ কাজ তিনি জীবনে করেননি। শুধু এই জন্য সেই সকাল থেকে থানায় নিজের টেবিলে সমস্ত হিসেব মেলাতে বসেছেন অরুণ। গুমটি থেকে এক ভাঁড় চা দিয়ে গেল ছোটু। ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন সবে সকাল ন’টা। বড়বাবুর এখনও আসতে খানিক দেরি আছে। হাতের কর গুনে যোগ-বিয়োগ করতে থাকেন মেজোবাবু।

পাশের জানলাটা দিয়ে মৃদুমন্দ হাওয়া ঢুকছে। থানা চত্বরে কাঁঠাল গাছটা খুব ফলন্ত। ছাতনার এই দিকটায় এখনও গাছপালাগুলো হাত-পা ছড়িয়ে বাঁচতে পারে। চায়ের ভাঁড়টা জানলা দিয়ে ফেলে ফের হিসেবে বসেন। পনেরো দু’গুণে ত্রিশের শূন্য নামলে হাতে থাকে তিন, তিনের সঙ্গে দুই যোগ করলে…। হঠাৎ বাইরে থেকে ভেসে আসে এক নারীকণ্ঠে কান্নার শব্দ। সমস্ত হিসেবটা ফের গুলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

বাইরে কিছু একটা গোলমাল শুরু হয়েছে। এক মহিলার তীক্ষ্ণ আওয়াজ তিরের মতো ধাক্কা খাচ্ছে ঘরের দেওয়ালে। কার গলার আওয়াজ? থানায় সর্বসাকুল্যে বড়বাবু, মেজোবাবু, এক সাব-ইনস্পেকটর, ওই কনস্টেবল সুবল আর দুই সিভিক মহিলা। সাব-ইনস্পেকটর পরিমল একটা চুরির কেসে সাক্ষী দিতে গেছে জেলা আদালতে। দুই সিভিক মহিলার মধ্যে অলকার সবে বিয়ে হয়েছে। আর রূপালির বিয়ে করার কোনও ইচ্ছে আছে বলে তো মনে হয় না। পুলিশের কাজে তার খুব উৎসাহ। দিল্লি ক্রাইমের শেফালি শা’র মতো হাঁটাচলা অভ্যেস করছে ইদানীং। বহু সময় শেফালির মতো কথাও বলে। কিন্তু এটা তো তার গলা নয়।

না, একবার দেখতে হচ্ছে। মেজোবাবু উঠে পড়েন চেয়ার থেকে। বাইরের বারান্দায় এসে দাঁড়ান অরুণ। সুবল দাঁড়িয়ে আছে একটু দূরে। থানার গেটের সামনে এক যুবতী মহিলা, পরনে সুতির শাড়ি, মাথার চুল উশকোখুশকো, একবার বুক চাপড়াচ্ছে, একবার কপাল চাপড়াচ্ছে। কী সব বলে ইনিয়েবিনিয়ে কাঁদছে বুঝতে পারেন না অরুণ। অলকা কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছে কাঁঠাল গাছটার তলায়। মাঝে মাঝে হেসে গড়িয়ে পড়ছে। একে দিয়ে কিসসু হবে না, ভাবেন অরুণ। রূপালি ওই মহিলার কাছে গিয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। সুবল এগিয়ে আসে মেজোবাবুর দিকে। অরুণ চোখের ইশারায় জিজ্ঞাসা করেন, কী হয়েছে? সুবল এসে যা জানাল, তা হচ্ছে, ওই মহিলা তার পাঁচ বছরের মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছে না। বহু জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় এসেছে।

-রূপালিকে ডাকো। আর অলকাকে বলো, ফোনটা আপাতত বন্ধ রেখে, চারদিকে ভালো করে নজর রাখতে।

সুবল অলকার কাছে যেতেই সে বুঝতে পারে, ফোন বন্ধ করতে হবে। মেজোবাবুর নির্দেশমতো তাকে ওই মহিলার ওপর নজর রাখতে বলে রূপালিকে নিয়ে মেজোবাবুর টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায় সুবল।

-কী কেস রূপালি?

-কেস এমন কিছু জন্ডিস না স্যর।

-জন্ডিস না টাইফয়েড জিজ্ঞেস করছি না আমি। কী বলছে, সেটা বলো।

-স্যর, এই মহিলা বলছে, আজ সকালে এসেছে ছাতনায়। ওর বর আর দুটো ছেলেমেয়ে ওদের সঙ্গেই ছিল।

-বাকি মালগুলো গেল কোথায়?

-স্যর, ওরা এখন খুঁজছে।

-কাকে?

-ওই মেয়েটাকে স্যর, সুবল বলেনি?

-হ্যাঁ, বলেছে। তুমি ডিটেলসে বলো। ফালতু ঝামেলা বাড়ার আগে ওদের বিদেয় করতে হবে।

-স্যর, ওরা কাল এসেছিল ছাতনায় কোনও এক রিলেটিভের বাড়ি। সেখান থেকে বেরিয়ে ওদের বীরভূম যাওয়ার কথা।

-এখান থেকে বীরভূম?

-তাই তো বলছে স্যর। তারাপীঠ যাবে।

-বেশ, তারপর?

ওরা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে মালপত্র রেখে পাশে একটা চায়ের দোকানে চা, বিস্কুট খাচ্ছিল। কোলের বাচ্চাটাকে পাশে বসিয়ে রেখেছিল। খানিক পরে দেখে বাচ্চাটা সেখানে নেই।

-যা চলে। এ তো বড় কেস হয়ে যাবে তাহলে। বাচ্চাটা মা, বাবাকে ছেড়ে চলে গেল? এটা হয়?

-না, স্যর বাচ্চাটা অপাহিজ।

-কী হিজ?

-অপাহিজ স্যর। মানে কথাটথা ভালো বলতে পারে না, ওই মানে অ্যাবনর্মাল…।

-শোনো, এইসব বাচ্চাকে বলতে হবে বিশেষভাবে সক্ষম।

-হ্যাঁ, স্যর। ঠিক আছে।

-তাহলে বাচ্চাটা তো বেশি দূর যেতে পারবে না?

-তা তো ঠিকই স্যর।

কথার মাঝেই অলকা ঢুকে পড়ে হন্তদন্ত হয়ে।

-স্যর মেয়েটা একেবারে ভিতরে ঢুকে পড়ল স্যর।

-আরে, তোমাকে তো দেখতে বললাম।

-দেখছিলাম তো স্যর। হঠাৎ বড়বাবু ঢুকলেন, আর বড়বাবুর গাড়ির পিছু পিছু কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটা ভিতরে ঢুকে পড়ল।

-দূর, একটা কাজ যদি তোমাদের দ্বারা হয়।

বিরক্তিতে সারা মুখটা কুঁচকে যায় মেজোবাবুর।

-চলো বড়বাবুর ঘরে।

সুদীপ্ত সরকারের চেম্বারের বাইরে তরুণী বসে আছে। চোখ থেকে জলের ধারা নেমে শুকিয়ে গেছে। তবু ফুঁপিয়ে চলেছে। তাকে পাশ কাটিয়ে বড়বাবুর ঘরে ঢুকলেন মেজোবাবু। অলকাকে বাইরে দাঁড়াতে বলে অন্যরাও ঢুকে পড়ল ভিতরে। সুদীপ্ত সব শুনে ভিতরে ডেকে পাঠালেন মেয়েটিকে। সে উদ্ভ্রান্তের মতো ভিতরে ঢুকে সটান সুদীপ্তর পা জড়িয়ে ধরতে যাচ্ছিল। হাঁ হাঁ করে তাকে সরাল রূপালি। চেয়ারে বসিয়ে এক গ্লাস জল দেওয়া হল। খানিকটা জল খেয়ে মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, আমার বাচ্চাকে ছাড়া আমি মরে যাব স্যর। ওকে বাঁচান। স্যর আমার পুরো পরিবার মারা পড়বে স্যর। ও আমাদের জীবন স্যর। আমাদের বাঁচান স্যর।

সুদীপ্ত মৃদু ধমক দিয়ে কান্না থামাতে বলতে সে চুপ করল ঠিকই কিন্তু ফোঁপাতে লাগল। জানা গেল, তার নাম প্রমীলা। মন্টু, মানে তার বর আর বছর নয়েকের ছেলে, সন্টু আর কোলের মেয়েকে নিয়ে শিলিগুড়ি থেকে বাঁকুড়া এসেছে আগের দিন। সেখান থেকে ছাতনা, এক আত্মীয়ের বাড়ি। এদিন তারাপীঠে পুজো দিয়ে ফেরার কথা পরের দিন। তার আগেই এই কাণ্ড। তার মেয়ে না পারে কথা বলতে, না পারে হাঁটতে। সবসময় কোলে নিয়ে ঘুরতে হয়।

সব শুনে সুদীপ্ত মেজোবাবুকে নির্দেশ দিলেন, রূপালি আর সুবল আগে বাসস্ট্যান্ডে যাক। সেখানে খুঁজে দেখুক। তারপর ভাবা যাবে। বাইরে বেরিয়ে প্রমীলাকে জিজ্ঞাসা করে রূপালি,

-ফোন আছে?

-হ্যাঁ, আছে।

-চলো আমাদের সঙ্গে। তোমার বরকে একটা ফোন লাগাও। বলো, বাসস্ট্যান্ডে আমাদের সঙ্গে যেন দেখা করে।

একটা পুলিশ ভ্যানে প্রমীলাকে উঠিয়ে সুবল আর রূপালি থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মেজোবাবু হাসিমুখে জানালেন, উপরির হিসেব প্রায় মিলিয়ে ফেলেছেন। এ কথা জানিয়ে পাশের ঘরে কাগজপত্র গুছিয়ে আসতে গেলেন। উপরির হিসেব নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নন সুদীপ্ত। তিনি অন্যকথা ভাবছেন। মানুষের মন বড়ই বিচিত্র। বিশেষভাবে সক্ষম একটি সন্তান, তার ওপর ছেলে নয়, একটি মেয়ে। তার জন্য কান্নায় বুক ভাসাচ্ছে তার মা? মহিলার কথাও ভারী অদ্ভুত, বলছে, এই মেয়েই নাকি পরিবারের বেঁচে থাকার রসদ। মনের কন্দরে কার জন্য, কখন যে কী রসায়ন তৈরি হয় তার বোধহয় কোনও নিয়ম নেই, ভাবেন সুদীপ্ত। দিনকয়েক আগেই এক কিশোরীর বাবা থানায় এসে অভিযোগ করলেন, মেয়ের মা এক বিবাহিত পুরুষের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে। বাড়ির বৌকে খুঁজে দিতে হবে। সুদীপ্ত জানেন, এইসব অভিযোগ আদালতে ধোপে টিকবে না। পরকীয়া আজ আর কোনও অপরাধ নয়। কিন্তু ওই কিশোরীটির কী হবে? দুত্তোর, এইসব দর্শন আর ভালো লাগে না। তার চেয়ে মেজোবাবুর দর্শনটাই ভালো। সত্যেরে লও সহজে। ঘুষের টাকা নিতে দু’বার ভাবেন না আবার ডগ শেলটারগুলোর জন্য অবলীলায় মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা দিয়ে দেন। কোনও ছেলেপুলে নেই, অথচ সারমেয় সন্তানদের প্রেমে পাগল।

পাশের ঘর থেকে হনহন করে বড়বাবুর ঘরে ঢুকে পড়েন অরুণ।

-স্যর, পাওয়া গেছে।

-কাকে?

-ওই তো স্যর, বাচ্চাটাকে।

-তাই নাকি? কোথায়?

রূপালি ফোন করেছিল স্যর। বলে, বাচ্চাটা হামাগুড়ি দিয়ে অল্প দূরে একটা গুমটির নীচে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে বেরোতে পারেনি। একটা কুকুর গুমটিটার কাছে গিয়ে গুমটির তলাটা শুঁকছিল আর ডাকছিল। আর আমাদের শেফালি শা একেবারে ফেলুদার মতো মাটিতে শুয়ে পড়ে দেখে বাচ্চাটা নীচে বসে আছে। আর খুব আস্তে আস্তে কাঁদছে।

-ওর বাবা কোথায়?

-স্যর, ওর বাবাটা সব এলাকাটা ঘুরেছে, এদিকে বাসস্ট্যান্ডটাই ভালো করে দেখেনি। ধরে নিয়েছিল, বাচ্চাটাকে কেউ চুরি করেছে।

-প্রথমেই ভেবে নিল, চুরি করেছে?

-হ্যাঁ, স্যর আমরা আসলে চুরি, ছিনতাইয়ে বেশি বিশ্বাস রাখি তো।

আধ ঘণ্টার মধ্যে সকলে এসে পড়ল। ভ্যান থেকে বিজয়ীর হাসি নিয়ে নামল রূপালি। সুবলের পিছনে চোয়াড়ে চেহারার একজন, বোঝাই যাচ্ছে মন্টু। তার পিছনে ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে নামল বছর নয়েকের সন্টু। সবার শেষে প্রমীলা আর তার কোলে এদিনের নায়িকা, বছর পাঁচেকের শিশুটি। প্রমীলা তাকে আঁকড়ে ধরে আছে। বড়বাবুর ঘরে এসে ঢোকে সকলে। মন্টুর মুখেচোখে দিনভরের ক্লান্তির প্রলেপ। প্রমীলার মুখে নরম প্রশান্তির ছায়া।

-স্যর, আপনারা বাঁচিয়ে দিলেন আমাদের। আমাদের লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে দিলেন স্যর।

-ঠিক আছে, ঠিক আছে। মেজোবাবু, এবার তাহলে ছেড়ে দিন ওদের।

এই সময় হাঁ হাঁ করে উঠল মন্টু।

-না স্যর, একটু বাইরে আসতে হবে আপনাদের।

-আমাদের?

বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করে সুদীপ্ত।

-হ্যাঁ, স্যর, একবার স্যর।

সুদীপ্ত বাধ্য হয়ে উঠে দাঁড়ায়। সকলে বাইরে যায়।

হঠাৎ বাচ্চাটিকে রূপালির কোলে তুলে দিতে যায় প্রমীলা। হকচকিয়ে যায় রূপালি।

-কী হল?

বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করে রূপালি।

-দিদি তুমি ওকে আমার হাতে তুলে দেবে।

রূপালি হতভম্ব হয়ে বাচ্চাটিকে কোলে নেয়। প্রমীলা মন্টুকে বলে,

-তাড়াতাড়ি করো, দেরি কোরো না।

কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মন্টু বুকপকেট থেকে একটি দামি ফোন বার করে। প্রমীলা সকালের মতো ফের ইনিয়েবিনিয়ে কাঁদতে শুরু করে।

আজ আমার জীবনে একটা মস্ত ফাঁড়া কেটেছে গো। তোমরা যারা প্রমীলার জীবনের নিয়মিত দর্শক, তাদের সবাইকে বলছি আমার বাড়ির লক্ষ্মী হারিয়ে গিয়েছিল আজ। থানার দাদাবাবু আর দিদিমণিরা আমার ঘরের লক্ষ্মীকে খুঁজে দিয়েছেন। তোমাদের আশীর্বাদ যেন ওর মাথায় থাকে। তোমরা সবাই এত ভাবো ওর জন্য, তোমাদের মধ্যে কতজন ওকে আশীর্বাদি টাকা পাঠাও। তাদের সকলকে এই সুখবরটা দিচ্ছি। এই দ্যাখো ও কেমন আমাদের কোল আলো করে ফিরে এসেছে। থানার বড়বাবু, মেজোবাবু, রূপালিদি, অলকাদি, ওই যে সুবলদা। সবাই রয়েছে এখানে।

মিনিট দশেক পর থামল শুটিং। প্রমীলা বরের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই মন্টু ফিশফিশ করে বলে, ‘আজ ভিডিও দারুণ হয়েছে। রিচ আর ভিউ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।’ সন্টু ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে চারদিকে। মন্টু তার ডান হাত ধরে হাঁটা দেয়। সন্টু বলে, ‘বাবা, একটা কাঠি আইসক্রিম কিনে দেবে?’

-হ্যাঁ চল না, সবার জন্যই কিনব।

সন্টুর মুখ হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অপস্রিয়মাণ পরিবারটিকে দেখতে থাকেন সুদীপ্ত। থানা চত্বরে তখন অরুণ কাঞ্জিলালের চারপাশে গোটা তিনেক নেড়ি ভিড় করেছে। প্যাকেট খুলে বিস্কুট খাওয়াচ্ছেন অরুণ। বড়বাবুর অনেক কাজ। ফাইল খুলে ঢুকে পড়েন খুন, ডাকাতি, ধর্ষণের জগতে।

Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

উত্তরের কবিমুখ

শিশির রায়নাথ কবিতা লেখা তাঁর শখ, অন্য আরও দশটা...

অণুগল্প

ডাকনাম তন্ময় কবিরাজ বিশাল বাড়ি। বাসিন্দা একজন। সুবিমল। চাকরি ছেড়ে সম্পত্তি...

কবির দাড়ি অথবা দাড়ির কবি

সুতপা সাহা সুকুমার রায় লিখেছিলেন, ‘গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, গোঁফ...

রবিকিরণ

নস্টালজিয়া পেরিয়ে ওটিটি’র রহস্যময় কবিগুরু গ্রন্থন সেনগুপ্ত তখন আমার বয়স বড়জোর...