উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম (Sikkim Earthquake)। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (NCS) তথ্য অনুসারে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.২। এবারেও কম্পনের উৎসস্থল ছিল সিকিমের গ্যালশিং। গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের ৫ কিলোমিটার নীচে। এদিন শুধু সিকিম নয়, কম্পন অনুভূত হয়েছে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও (North Bengal)। সেই সঙ্গে ভূমিকম্প টের পাওয়া গিয়েছে প্রতিবেশ দেশ নেপালের একাংশেও। তবে ভূমিকম্পের জেরে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কমপক্ষে ১২ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সিকিম। তাও আবার প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যে। শুরু হয়েছিল রাত ১টা ৯ মিনিটে। শুরুতেই মধ্যরাতে উত্তরবঙ্গের ঘুম ভাঙিয়ে দেয় ভূকম্পন। কিছুক্ষণের মধ্যে স্পষ্ট হয় উৎসস্থল সিকিমের মানেবাং থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ধরা পড়ে ৪.৫। শুক্রবার ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে শেষ কম্পন হয়। উৎসস্থল নামচি এবং রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ২.৯। কিন্তু এই দুটি কম্পনের মাঝে আরও ১০ বার কেঁপে ওঠে মাটি। চার ঘণ্টার কিছুটা বেশি সময়কালের মধ্যে একডজন কম্পনের মধ্যে হাফডজনের উৎসস্থল মংগন। বাকি ছয়টির মধ্যে নামচি কাঁপিয়েছে চারবার। ১২ বারের মধ্যে ৯ বারের গভীরতা মাত্র ৫ কিলোমিটার। বাকি তিনবারের গভীরতা ১০ কিলোমিটার। রাত ৩টা ১১ মিনিটের ৪.০, ২টা ২০ মিনিটের ৩.৯ এবং ১টা ১৫ মিনিটের ৩.১ যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। ভূতত্ত্ববিদদের বক্তব্য, প্রত্যেকদিনই পৃথিবীজুড়ে শয়ে-শয়ে ভূকম্পন হচ্ছে। সিসমোগ্রাফের উন্নতিতে ছোট ছোট কম্পনও ধরা পড়ছে। তবে উত্তরবঙ্গের অবস্থান এখন যথেষ্টই ঝুঁকিপূর্ণ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ধারাবাহিকভাবে হওয়া ভূমিকম্পের রেশ না কাটতেই শনিবারের কম্পনের ফলে যে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তা কার্যত স্পষ্ট।

