সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি: কমার্সিয়াল (বাণিজ্যিক) গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তার আগেই সিলিন্ডার প্রতি এই গ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় এক হাজার টাকা করে বাড়ানোয় ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ড সমস্যায়। শিলিগুড়িতে (Siliguri) অনেকেই খাবারের ব্যবসা করেন। প্রতিযোগিতা মারাত্মক। কিন্তু রান্নার গ্যাসের দাম হঠাৎ করে এতটা বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁদের অনেকেই খাবারের দাম বাড়াবেন বলে চিন্তাভাবনা করছেন। আবার খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতাদের তরফে সেভাবে সাড়া মিলবে না বলেও অনেকের আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের অনেকেই দোটানায় ভুগছেন। যাঁরা কম পুঁজিতে এই ব্যবসা করেন তাঁদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। গোদের ওপর বিষফোড়া বলতে, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এরই মধ্যে এই সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি চলছে। সমস্যার দিশা খুঁজতে ভোটের ফলপ্রকাশের পর প্রতিবাদ জানাতে কেউ কেউ রাস্তায় নামবেন বলে ঠিক করেছেন।
নর্থবেঙ্গল অ্যান্ড সিকিম এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি কৌশিক সরকারের কথায়, ‘এপ্রিল মাসেও বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহে সমস্যা ছিল। চলতি মাসে এই সমস্যা কতটা কাটবে জানা নেই।’ শিলিগুড়ির মতো বড় শহরের গুরুত্ব বুঝে এখানে সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘যাঁরা সিলিন্ডারের কালোবাজারি করছেন এবং যাঁরা এই সিলিন্ডার কিনছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ অন্যদিকে, তাঁদের সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরে গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ নির্মল সাহা বললেন, ‘সিলিন্ডারের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতারা পিছিয়ে যাবেন। আবার পুরোনো দাম বজায় রাখলে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হবে।’ সবদিক খতিয়ে দেখে খাবারের দাম কিছুটা বাড়ানোর দিকেই পাল্লাটা ভারী বলে নির্মল জানান। সমস্যার সমধান খুঁজতে অনেকে ইন্ডাকশন ওভেনের মতো সামগ্রী ব্যবহার শুরু করেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গ্যাসের আকাল চরমে উঠে। ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট অনেকটা কাটলেও বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের আকাল রয়েছে। শিলিগুড়িতে এতদিন ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২৪৮০ টাকা ছিল। শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে এই সিলিন্ডারের দাম প্রায় হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর জেরে শিলিগুড়িতে এই গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৩৪৭৩ টাকা হয়েছে। পরিমল সরকার, চম্পা সাহারা এসএফ রোডে ফাস্ট ফুডের দোকান চালান। কালোবাজারে এই সিলিন্ডার কিনতে তাঁরা সাড়ে চার হাজার টাকাও খরচ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার প্রতি তাঁদের খরচ বেড়ে ছয় হাজার টাকা হতে পারে বলে চম্পাদের আশঙ্কা। মোমো, চাউমিনের প্লেট প্রতি দাম অন্ততপক্ষে ২০ টাকা করে না বাড়ালে লাভের মুখ কেউ দেখতে পারবেন না বলেও অনেকে মনে করছেন। বিভিন্ন খাবারের দোকান অবশ্যই ইতিমধ্যেই ১০ শতাংশ করে খাবারের দাম বাড়িয়েছে।
শিলিগুড়ি সুইটস শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য সঞ্জীব ঘোষের অবশ্য বক্তব্য, ‘মিষ্টির দাম হঠাৎ করে বাড়ানো যাবে না। এখন বিয়ের মরশুম রয়েছে। দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বেন।’ হঠাৎ করেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানোয় তাঁরা ভোটের পর রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের চিন্তাভাবনা করছেন বলে সঞ্জীব জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক করতে হবে বলে তিনি জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

