প্রিয়দর্শিনী বিশ্বাস, শিলিগুড়ি: সামনেই নির্বাচন। বিভিন্ন খবরের কাগজে ভোটের ট্রেন্ড নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন খবরের চ্যানেলে বাঘা বাঘা সব প্যানেলিস্ট নিজেদের বক্তব্য রাখছেন (Panelists)। শিলিগুড়ির আনাচে-কানাচে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দেখা মিলছে (Siliguri Poll Fever)। কেউ চায়ের কাপে তুফান তুলছেন, কেউ আবার নিজের দাঁড়ি কাটা থামাতে বলে বিতর্কে যোগদান করছেন। কোথাও আলোচনা হচ্ছে কে ভোটে জিতবেন তা নিয়ে। কোথাও আবার প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে ‘মাইক্রোস্কোপ’-এর তলায় ফেলা হচ্ছে। এইসব বাঘা বাঘা ‘প্যানেলিেস্টর’ আলোচনায় এখন শহরের বিভিন্ন সেলুন এবং চায়ের দোকানের উত্তাপ বাড়ছে।
সকাল সকাল সেলুনে গিয়েছিলেন গৌতম ঘোষ। গিয়ে দেখলেন মুখে সেভিং ক্রিম লাগিয়ে চেয়ারে একজন বসে। পাশের চেয়ারে হাতে খবরের কাগজ নিয়ে বসে একজন অপেক্ষা করছেন। দোকানের বেঞ্চে তখন তিনজন ‘প্যানেলিস্ট’। তাঁদের মধ্যে যিনি বাম সমর্থক, তিনি বলেন, ‘দাদা আপনি যে এত বড় বড় কথা বলছেন আপনার ওয়ার্ডেও তো একই পরিস্থিতি। আমার বোনের বাড়ি ওখানে। সব জানি দাদা।’


তৃণমূল সমর্থক গলা চড়িয়ে বলেন, ‘আপনাদের আসলে কিছুতেই মন ভরে না বুঝলেন তো।’ পাশে বসে থাকা আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আপনারা থামুন তো মশাই। যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। বুঝলেন?’
তাঁদের থামিয়ে গৌতম বলেন, ‘দাদা সামনে ভোট। একেকজনের একেক রকম মত। ভোট বা রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হোক, তর্ক করার কোনও মানে হয়?’ ব্যাস, এই কথা থেকেই পরবর্তী বিতর্ক শুরু হয়।
সুভাষপল্লির একটি চায়ের দোকানে প্রবীণরা আড্ডা দিচ্ছিলেন। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বারবার টুলের ওপর রেখে দিচ্ছিলেন সমরজিৎ বসু। আলোচনা হচ্ছিল এবার শিলিগুড়ি বিধানসভায় কোন প্রার্থী জিতবেন। বিজেপি সমর্থক সমরজিৎ বাকিদের কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিলেন। বাকিরা তাঁকে খ্যাপাচ্ছিলেন। খেপে গিয়ে শেষমেশ চা শেষ না করে বাড়ির দিকে হাঁটা লাগান তিনি। যাওয়ার সময় দোকানি শ্যামল দাসকে বলেন, ‘শ্যামল তোমাকে পরে চায়ের দাম দেব। এরা বোঝে কম বলে বেশি।’ আড্ডা মারতে মারতে কার্তিক ঘোষ বলেন, ‘ ওই চায়ের দাম আমরাই তোমাকে দিয়ে দেব শ্যামল। উনি যখন সহ্য করতে পারেন না, তর্কে যোগ দেন কেন?’
ডাবগ্রামের একটি সেলুনে চুল-দাড়ি কেটে দিচ্ছিলেন মনা দাস। আজকাল দোকানে রাজনীতি নিয়ে আড্ডা কেমন চলছে? জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন, ‘আর বলবেন না। কথা বলতে বলতে সবাই এত বেশি সিরিয়াস হয়ে যায়, মনে হয় এই বুঝি মারপিট শুরু হবে। সেদিন কয়েকজনকে বলেই ফেললাম, যেই জিতে আসুক আমরা সেই তিমিরেই থাকব। আপনারা কেন ঝগড়া করে যাচ্ছেন। রাগও হয় মাঝেমধ্যে। দোকানে কাজ করব নাকি এদের ঝগড়া শুনব। পাশের দোকান থেকে খবরের কাগজ নিয়ে এসে বসবে তারপর একে একে শুরু হবে বক্তৃতা। এরাই তো ভোটে দাঁড়াতে পারে।’
প্রথম দফা ভোটের আর মাত্র ক’দিন বাকি। ভোটের ফল শুধুমাত্র সময়েরই জানা। কিন্তু নির্বাচনের ফল বেরোনোর আগে পর্যন্ত এই শহর যে রাজনৈতিক আলোচনায় মেতে থাকবে, সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

