শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় (Siliguri) প্যারামেডিক্যাল এবং নার্সিং কোর্সের নামে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। শুক্রবার প্রধান নগর থানার পুলিশ (Police) শহরের এক প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের (Fake Institute) বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে দুই মহিলা সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিন বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রধান নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির সময় লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছে কোর্স পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ সরকারি নথিপত্র বা অনুমোদন ছিল না। এমনকি প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া সার্টিফিকেটগুলো কোনও সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানতে পারেন তাঁরা।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ মিলন মোড় এলাকায় অবস্থিত ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হানা দেয়। তদন্তে দেখা যায়, স্বাস্থ্য দপ্তর বা কোনো শিক্ষা পর্ষদের বৈধ ছাড়পত্র ছাড়াই রমরমিয়ে চলছিল এই কারবার। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ কৌশিক গুহ, নবীন চন্দ্র বনিক, সুরজিত শর্মা, সঞ্জয় শর্মা, অভিজিৎ সূত্রধার, রোধা খাতি এবং রোশি ছেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা শিলিগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাড়াও আলিপুরদুয়ার, মিরিক ও কালিম্পংয়ের বাসিন্দা।
শনিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে (Siliguri Court) পেশ করা হয়। কয়েকদিন আগেই সালবাড়ি এলাকায় একই ধরনের একটি ভুয়ো প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিলিগুড়ি শহরে এই ধরনের প্রতারণা চক্রের একটি বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। কতজন ছাত্রছাত্রী এই ফাঁদে পড়ে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন এবং এর পিছনে আর কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে প্রধান নগর থানার পুলিশ।

