শিলিগুড়ি: মঙ্গলবার রাতে ঝংকার মোড় এলাকায় নীরজ কুমার শা নামে এক তরুণের বাইকে গাড়ি ধাক্কা মারার অভিযোগ ঘিরে সরগরম শিলিগুড়ি। ওই গাড়িতে বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সভাপতি সৌরভ বসু সরকার ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বুধবার শিলিগুড়ি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেস (BJP vs TMC)। তৃণমূল যুব সভাপতি জয়ব্রত মুখুটির কটাক্ষ, “সাংসদ গুন্ডামি করেন, বিধায়ক পুলিশকে হুমকি দেন—তাদের দলের নেতার থেকে এমনটাই প্রত্যাশিত।”
ডায়েরি বনাম বয়ান: তুঙ্গে বিতর্ক
আহত তরুণ নীরজ কুমার শা থানায় যে ডায়েরি করেছেন, তার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া তাঁর বিবরণে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা গেছে।
- থানার ডায়েরিতে অভিযোগ: সৌরভ ও তাঁর চার মদ্যপ সঙ্গী গাড়ি থেকে নেমে নীরজকে হেনস্থা করেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।
- সংবাদমাধ্যমে বয়ান: নীরজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধাক্কা লাগার পর তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর দেখেন এক তরুণ (সৌরভ) গাড়ি থেকে নেমে তাঁকে দেখছেন। পুলিশ আসতেই ওই তরুণ গাড়ি নিয়ে চলে যান। ফোনে হুমকির বিষয়ে তিনি জানান, তাঁর বন্ধুর ফোনে সৌরভ হুমকি দিয়েছেন, তাঁকে সরাসরি নয়।
‘মদ্যপ ছিলেন বাইক আরোহীই’, পাল্টা দাবি সৌরভের
গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা সৌরভ বসু সরকার। তাঁর পালটা দাবি, “ওই তরুণ নিজেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং বাইক নিয়ে পড়ে যান। মানবিকতার খাতিরে আমার দলের সাধারণ সম্পাদক মিথিলেশকে বলেছিলাম তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। ডাক্তার জানিয়েছেন তাঁর বিশেষ চোট নেই। অথচ রাতে তাঁর বন্ধুরা ফোন করে আমার কাছে টাকা চেয়েছিল। আমি কেন টাকা দেব?” মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে নীরজের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সৌরভ।
একই ঘটনায় ডায়েরির বয়ান ও মুখের কথায় এমন বৈপরীত্য দেখে প্রশ্ন উঠছে, নীরজ কি স্বেচ্ছায় অভিযোগ করেছেন নাকি ভোটের মুখে রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁকে ব্যবহার করা হচ্ছে? শহর জুড়ে এখন এই ‘হিট অ্যান্ড রান’ বনাম ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’-এর চাপানউতোর তুঙ্গে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

