নিতাই সাহা, শিলিগুড়ি: একবার, দু’বার নয় তিন-তিনবার! তারপরেও পুরনিগম এলাকায় ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ (Amader Para Amader Samadhan) প্রকল্পের ৫০০-র বেশি কাজ শুরু করাই সম্ভব হয়নি। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধ। বিরোধী দলের নেতারা পুরনিগমকে কাঠগড়ায় তুলে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। যদিও শাসক নেতৃত্ব তাতে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। তবে, বিতর্ক এড়াতে পুরনিগমের কমিশনার অশ্বিনীকুমার রায় বলছেন, ‘ভোটপর্ব মিটতেই বাকি থাকা প্রতিটি প্রকল্পের কাজই শুরু হয়ে যাবে।’
পুরনিগম সূত্রে খবর, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে শহর শিলিগুড়ির (Siliguri) ২৪১টি বুথ মিলিয়ে মোট ১৮৬৪টি প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রথম ধাপে ডিপিআর তৈরি করে টেন্ডার ডাকা হয়। একে একে ১৩৫০টি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নও হয়। তার মধ্যে পাঁচ শতাধিক প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলির কাজ চলছে। যদিও ৫১৪টি প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু করাই সম্ভব হয়নি। পুরনিগম সূত্রে খবর, ৫১৪টি প্রকল্পের মধ্যে ছোট ছোট বেশকিছু রাস্তা, পানীয় জলের পয়েন্ট, মিনি হাইমাস্ট লাইট সহ একাধিক কাজ লিপিবদ্ধ রয়েছে। ওই ৫১৪টি প্রকল্পের জন্য তিনবার টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। প্রতিক্ষেত্রেই তিনের কম ঠিকাদারি সংস্থা অংশ নিয়েছিল। ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়।
পুর আধিকারিকদের একাংশের মতে, ছোট ছোট কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদারি সংস্থাগুলি খুব একটা আগ্রহ না দেখানোর জেরে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অপ্রতুলতাও অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিরোধীদের দাবি, কাজ শেষে সময়মতো টাকা না পাওয়ায় ঠিকাদারদের অনেকেই টেন্ডারে অংশ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যার ফলে এখনও পাঁচ শতাধিক প্রকল্পের কাজ অধরাই থেকে গিয়েছে।
একাধিকবার টেন্ডার ডাকা হলেও পাঁচ শতাধিক প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় পুরকর্তাদের অনেকেই কিছুটা হলেও চিন্তিত হয়ে উঠেছেন। আদৌ ভোটপর্ব শেষে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারি সংস্থাগুলি অংশ নেবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষের দাবি মেনে ওই প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েও তা এখনও শুরু করতে না পারায় নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদলকে এর খেসারত দিতে হবে না তো?
পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার অবশ্য বললেন, ‘ইতিমধ্যে ৫০০টির বেশি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও আরও একাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। যেগুলি এখনও টেন্ডার হয়নি সেগুলি ভোটের পর হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘কাজ যখন শুরু হয়েছে তা শেষ হবেই। আমরা আরও একবছর পুরনিগমের ক্ষমতায় আছি।’ অন্যদিকে, পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈনের বক্তব্য, ‘সবটাই লোক দেখানো। শুধু জায়গায় জায়গায় বোর্ড লাগানো হচ্ছে। আসলে সঠিক সময়মতো টাকা না পাওয়ার জেরে ঠিকাদাররা কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ছাব্বিশের নির্বাচনের ভোটবাক্সে এর প্রভাব পড়বে। মানুষ যোগ্য জবাব দেবে।’

