শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : বিহারের ভোট রাজনীতিতে লক্ষ্মীলাভ শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায়ীদের একাংশের। প্রার্থীর হয়ে ডিজিটাল প্রচার থেকে শুরু করে মিছিলের রুটম্যাপ, ব্যানার ডিজাইন- সব জোগাড়-যন্তের দায়িত্ব পাচ্ছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। তিন-চার মাস ধরে বিধানসভা এলাকায় রীতিমতো সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ঠিক করা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারে টি-শার্ট, পেন থেকে নোটবুক- কী কী ব্যবহার করা হবে। এদিকে, বিহার নির্বাচনে দলগুলি শিলিগুড়ির ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধায় প্রশ্ন উঠছে- পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেও কি এভাবে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে?
যদিও নির্বাচন কমিশমের নিয়ম বলছে, এভাবে সরাসরি দলীয় প্রচারে অন্য সংস্থার সাহায্য নেওয়া যায় না। তবে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ভারতের রাজনৈতিক বিবর্তনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন প্রশান্ত কিশোর, প্রতীক জৈনের মতো প্রবাদপ্রতিম ভোটকুশলীরা। তাঁদের দেখানো সেই পথে, তৃণমূল-স্তরে এবার হাঁটছে এই ছোট ছোট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। বাংলার ভোটেও সেই প্রয়োজন উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক নেতারা। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলছিলেন, ‘এখন ডিজিটাল প্রচার নির্বাচনের অঙ্গ। কথায় বলে, ‘যো দিখতা হ্যায় ওহি বিকতা হ্যায়।’ সেক্ষেত্রে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা অবশ্যই রয়েছে। তবে আমাদের ইভেন্টের ম্যানেজমেন্ট সংস্থার প্রয়োজন নেই। আমাদের কর্মীরাই একেকজন ইভেন্ট ম্যানেজার।’ তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কোর কমিটির সদস্য পাপিয়া ঘোষের বক্তব্য, ‘সময়ের সঙ্গে প্রচারের ধরন বদলেছে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন পড়লে আমরাও দেখব।’
সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের মত ভিন্ন। দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের সভাপতি শাহনাওয়াজ হুসেনের বক্তব্য, ‘সাধারণ মানুষের ওপর আমাদের আস্থা আছে। কংগ্রেস ওই মন্ত্রে চলে।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক সমন পাঠকের কথায়, ‘আউটসোর্সিং করে অন্য দলগুলো এসব রাস্তা ব্যবহার করে।’
বেশ কিছু বছর ধরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন সুমন বসাক। বিহারের ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রে এনডিএ প্রার্থীদের প্রচারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। সুমন বলছিলেন, ‘৬টি বিধানসভার মধ্যে পাঁচটিতে জেডিইউ এবং একটিতে এলজেপি-র হয়ে কাজ করছি। কুড়িজনের বেশি ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছি আমরা। জুলাই থেকে এ ব্যাপারে কাজ শুরু হয়। জনসভার জায়গা এবং মিছিলের রুট আমরাই ঠিক করে দিচ্ছি।’
আসলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ এখন আর শহরে সীমাবদ্ধ নেই। বিহারেও ব্যবসা ছড়িয়েছে। সেই সূত্রে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে বলছিলেন মিহির আগরওয়াল। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে জড়িত এই ব্যবসায়ীর কথায়, ‘বিহারে নির্দল প্রার্থীরাও এবার প্রচারের ওপর জোর দিচ্ছেন।’ তবে ঘুরেফিরে উঠছে শিলিগুড়ি ও বাংলার প্রসঙ্গ। মনোজ বৈশ্য, দীপঙ্কর সরকার আশাবাদী। তাঁরা বলছেন, বিহারে হচ্ছে। এবার বাংলাতেও এই ট্রেন্ড শুরু হবে।

