তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: চলতি বছরের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (KIFF 2025) জায়গা পেল শিলিগুড়ির (Siliguri) সৌরভ ভদ্রের ১৯ মিনিটের তথ্যচিত্র ‘ফৌজদার’। রবিবার নন্দনে ওই তথ্যচিত্রটি দেখানো হবে। এরপর আবার ১৩ নভেম্বর শিশির মঞ্চে ‘ফৌজদার’ প্রদর্শিত হওয়ার কথা। সৌরভ জানিয়েছেন, তথ্যচিত্রটি বানাতে তাঁর চার বছর সময় লেগেছে। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি তথ্যচিত্রটি পাঠিয়েছেন। আপাতত নন্দনে ‘ফৌজদার’ দেখে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কী হয়, শোনার অপেক্ষায় পরিচালক।
সৌরভের ‘ফৌজদার’ তথ্যচিত্রটির মূল বিষয় দশাবতার তাস। দশাবতার তাস আসলে কী? মল্ল রাজাদের সঙ্গে এর যোগাযোগ কীভাবে? কেন ফৌজদারদের রাজস্থান থেকে ওই তাস তৈরির জন্য বাংলায় নিয়ে আসা হয়েছিল? সমস্ত উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ‘ফৌজদার’ তথ্যচিত্রটিতে। বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত দশাবতার তাস যেন আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রাচীন সংস্কৃতির চিহ্নটি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শীতল ফৌজদার। আর তাঁর জীবন ও প্রতিদিনের লড়াইকেই সেলুলয়েডে ধরেছেন সৌরভ।
সৌরভ জানিয়েছেন, মল্লবংশের রাজাদের সময়কার স্থাপত্য ও ভাস্কর্য আজও উজ্জ্বল। তবে তাঁদের নামের সঙ্গে জড়িত দশাবতার তাস খেলা আজ ফসিল হয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায়। ওই দশাবতার তাস তৈরির জন্য তখন রাজস্থান থেকে ফৌজদারদের আনা হয়েছিল। আজ পঞ্চাশ বছর বয়সি শীতল ইতিহাস আঁকড়ে থাকলেও, তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম আর তাস তৈরির কাজে আসতে চাইছে না। কারণ দশাবতার তাসের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে বললেই হয়। অথচ একসময় রাজস্থান থেকে ফৌজদার পরিবারকে বিষ্ণুপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল। বর্তমানে তাস বানানোর পেশায় আর্থিক সংকট থাকায়, তাঁরা লোকশিল্পের কাজ থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছেন।
তবে বহু মানুষ দশাবতার তাসের ব্যাপারে তেমন কিছুই জানেন না আর সেখান থেকেই সৌরভের তথ্যচিত্রটি বানানোর পরিকল্পনা শুরু। সৌরভের মতে, ‘ফৌজদার’ দেখে নতুন প্রজন্ম শীতল ফৌজদারের জীবনের সঙ্গেই দশাবতার তাস খেলা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর ধরাধামে দশ অবতার নেওয়ার পৌরাণিক কাহিনী জানা না থাকলে এই তাস খেলা যায় না। সাধারণ তাসের সাহেব, বিবি, গোলামের পরিবর্তে এখানে ভগবান বিষ্ণুর দশটি অবতারের ছবি ও বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করা হয়। একটি সম্পূর্ণ সেটে মোট ১২০টি তাস থাকে। তেঁতুলবীজের আঠা, মেটে সিঁদুর, গালা, বেলের আঠা, শিরীষের আঠা, খড়িমাটি ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে তাস বানানো হয়।
সৌরভের বাড়ি শিলিগুড়ির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়ায়। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি বাংলা সিরিয়ালের জন্য চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেন। সঙ্গে লিখতেন গান। ‘মিশর রহস্য’ সিনেমায় তিনি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন। অঙ্কুশ হাজরা ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় অভিনীত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ সিনেমার টাইটেল ট্র্যাকটিও সৌরভের লেখা।

