উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: “আমি এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়তে আসিনি, আমি এসেছি বাংলার সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে।” বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR Case Hearing) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এভাবেই নিজের কথা পেশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গকে সুপরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে কাজ করছে।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ: শুনানি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভাবতে পারেন, ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে অনেক জীবিত মানুষও রয়েছেন। এমনকি বিয়ের পর কোনো মেয়ের পদবি পরিবর্তন হলেও তাকে ‘মিসম্যাচ’ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আধার কার্ড বা কাস্ট সার্টিফিকেট— কোনো কিছুই মানছে না কমিশন।” এই মানসিক চাপের মুখে পড়ে রাজ্যে ১০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন: মুখ্যমন্ত্রী সরব হন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, “রোল পর্যবেক্ষকদের নিয়ে আসা হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো থেকে। অথচ কেন অসমে এমন করা হয়নি? বিএলও (BLO) বা ইআরও-দের কোনো ক্ষমতা নেই, সব নিয়ন্ত্রণ করছেন বাইরে থেকে আসা মাইক্রো অবজারভাররা।” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে (CEC) ৬ বার চিঠি দিলেও কোনো উত্তর মেলেনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সুবিচার চাই। বাস্তবটা বুঝুন- ERO, BLO-দের আজ কোনও ক্ষমতা নেই। এরা ৮৪০০ মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়োগ করে তাঁদের হাতে সব ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। তাঁরাই সব নাম বাদ দিচ্ছে। ইলেকশন কমিশন আজ হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন হয়ে গিয়েছে। জনতাকে অভিযোগ জানাতে দিচ্ছে না।’
সময়ের সীমাবদ্ধতা ও আইনি যুক্তি: মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতে প্রশ্ন তোলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে মাত্র ১১ দিন বাকি থাকতে কীভাবে এত বড় কাজ শেষ হবে? ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৬৩ লক্ষ মানুষের হিয়ারিং এখনও বাকি, যার জন্য সময় রয়েছে মাত্র ৪ দিন। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে চিহ্নিত করে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা বাতিলের দাবি জানান তিনি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জানান, আধার কার্ড সংক্রান্ত মামলার রায়দান এখনও বাকি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে থাকা সংবাদমাধ্যমের কিছু ছবি দেখার অনুমতি চাইলে আদালত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনার আশ্বাস দেয় এবং জানায়, “আমরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেব।” এই মামলায় সব পক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে। আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

