উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের পর এসআইআর (SIR in West Bengal) শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে জানাল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন। ওই মাসের ১৪ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কমিশন সূত্রে খবর, শুনানির দিন বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা হয়নি বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে । সুপ্রিম কোর্টের রায় মোতাবেক বুধবার নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনও পিছিয়ে যেতে পারে।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ১) নির্বাচন কমিশনকে তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ থাকা ভোটারদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। গ্রামের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিস এবং শহরের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড অফিসে এই তালিকা টাঙাতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ তা সহজে দেখতে পান। ২) আদালতের নির্দেশে বড় প্রাপ্তি হলো, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ভোটাররা এখন থেকে নিজেদের অনুমোদিত প্রতিনিধি বা বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) মাধ্যমে নথি জমা দিতে বা আপত্তি জানাতে পারবেন। ৩) তালিকায় নাম প্রকাশের পর থেকে অতিরিক্ত আরও ১০ দিন সময় দিতে হবে দাবি বা আপত্তি জমা দেওয়ার জন্য। এছাড়াও, জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ৪) এসআইআর কেন্দ্রগুলিতে আইনশৃঙ্খলার যাতে কোনো অবনতি না হয়, তার জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং জেলাশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে শুনানি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করার কথা বলা হয়েছে। যদিও রসিদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি, তবে জমা নেওয়া নথির প্রতিলিপিতে সিল দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার করার ইঙ্গিত মিলেছে।
পরিসংখ্যানের ওপর চাপ: কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারকে নথি যাচাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটারের ক্ষেত্রেই তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ রয়েছে। বিশাল সংখ্যক এই মানুষের শুনানি সম্পন্ন করতে কমিশনের হাতে থাকা ৭ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে বুধবারই নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করতে পারে কমিশন।

