সাগর বাগচী, মাটিগাড়া: কীভাবে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা এসে মাটিগাড়ায় (Matigara) বসতি গড়ে, শ্রমিক, পরিচারিকা হিসেবে এলাকায় কাজ আদায় করছেন সে বিষয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ প্রিয়াংকা বিশ্বাস কয়েক মাস আগে নিজস্ব অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরেছিলেন। বাংলাদেশের এক নাগরিক কীভাবে মাটিগাড়াতে এসে বিভিন্ন পরিচয়পত্র বানিয়ে প্রিয়াংকার বাড়িতে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন তা তিনি সবাইকে জানান।
মাটিগাড়ার রানাবস্তি, লেনিন কলোনি, বালাসন বস্তি এলাকায় বহু অনুপ্রবেশকারীর ঘাঁটি গেড়ে থাকা নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে। তবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) (SIR) শুরু হতেই এলাকায় এমন বহু সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীর দেখা মিলছে না। লেনিন কলোনি, বালাসন বস্তির মতো এলাকায় এসআইআর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন তথ্য উঠে এল।
অনুপ্রবেশকারী যে এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছে তা মাটিগাড়া–২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দীপালি বর্মন স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘বৈধ কাগজপত্র নেই, এমন বহু মানুষ এই এলাকায় রয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীও রয়েছে। কিন্তু এত মানুষের তথ্য নেই। এসআইআর হলে সেই মানুষজনের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।’
বালাসন নদীর পাশে লেনিন কলোনি গড়ে উঠেছে। জায়গাটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বস্তি হিসাবে পরিচিত। বালাসন নদীর পাশ দিয়ে সেই বস্তির শেষের দিকে এগিয়ে যেতেই দেখা গিয়েছে, নদীর পাশে বাঁশ, টিন দিয়ে ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। এলাকার একটি চায়ের দোকানে শনিবার আড্ডা চলছিল। সেখানেও এসআইআর নিয়ে আলোচনা চলছিল।
বিহারের ঠাকুরগঞ্জের বাসিন্দা মহম্মদ ফারুক এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। হিন্দিভাষী মানুষটি নদী থেকে বালি–পাথর তোলার কাজ করেন। ফারুকের কথায়, ‘গত কয়েক বছরে বহু মানুষ এখানে থাকা শুরু করেছে। যার মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকরাও রয়েছেন। কয়েকজন আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁরা এলাকায় ঘরভাড়া নিয়ে থাকতেন। তবে এসআইআর শুরুর পর থেকে এলাকায় তাঁদের কয়েকজনের দেখা মিলছে না। হয়তো বাইরে কোথাও গিয়েছেন। তাঁদের কতজনের কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে জানি না।’
তবে ফারুক কিছুটা মুখ খুললেও সিংহভাগ বাসিন্দা এসআইআর নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিলে অনেকে ভয়ে গুটিয়ে যাচ্ছেন। ছবি তোলা বা ভিডিও করা যাবে না বলে আগেই জানিয়ে দিচ্ছেন। সিংহভাগ মানুষ নিজেদের পরিচয় গোপন করে রাখছেন। প্রশ্ন করলেই সমস্ত কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মাটিগাড়ার রানাবস্তিতেও পরিস্থিতি মোটামুটি এক। বালাসনের পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা রানাবস্তির মানুষ নদী থেকে বালি–পাথর তোলার কাজে যুক্ত।
তরুণ বর্মন ওই এলাকায় বালি তোলার কাজ করেন। এই এলাকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে কি না বলে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। উত্তর এল, ‘এলাকার এমন অনেক ঘর রয়েছে, যেখানে খোঁজ করলেই অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে জানতে পারবেন। এলাকাটি অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়ে ভরে গিয়েছে। এসআইআর শুরুর পর অনেকে ভয়ে রয়েছেন। অনেকে নিজেদের ঘরে বন্দি করে রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীরাও রয়েছেন।’
বিষয়টি নিয়ে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, ‘যাঁরা শরণার্থী তাঁদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে অনুপ্রবেশকারীরা এই অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা, নাশকতামূলক কাজ করতে পারে। তারা যদি অন্যত্র চলে গিয়ে থাকে তবে বিষয়টি দেখার। এদের দেশের বাইরে বের করে দেওয়া জরুরি।’

