মনোজ বর্মন, শীতলকুচি: বাঙালির একবেলা ভাত না খেলে নাকি তৃপ্তি আসে না শরীরে। কিন্তু এ এক-দু’বেলার ব্যাপার নয়। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভাত ছাড়াই চলছে শীতলকুচির (Sitalkuchi) ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সুভাষ বর্মনের জীবন। ১০ বছর আগে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন অন্ন ত্যাগের। মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ায় সেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের সময় এসেছে। এবার বাড়িতে অনুষ্ঠান করে ভাত খাবেন তিনি।
মাশানকুড়া বাজার থেকে দু’কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আওয়ালিকুড়া বুথ এলাকায় সুভাষের বাড়ি। ১০ বছর পর এখনও সেই বাড়িতে ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) ছাপ স্পষ্ট। ভাঙা ঘর এখনও সারাই করতে পারেননি তিনি।


অন্ন ত্যাগের কারণ কী? সুভাষের প্রতিবেশী শান্ত বর্মন জানালেন, ২০১৬ সালে কোচবিহার লোকসভা ভোটের উপনির্বাচনে বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন সুভাষ। এই ‘অপরাধে’ ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরের দিন দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালান। ভাঙচুর ও লুট করা হয় সুভাষের বাড়ি। ওইদিন বাড়িতে রান্না করা খাবার খেতে পারেনি সুভাষের পরিবার। রান্নাঘর থেকে ভাতের হাঁড়ি ছুড়ে ফেলা হয়েছিল আঙিনায়। গোটা বাড়িজুড়ে ভাত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল। ক্ষুব্ধ সুভাষ প্রতিজ্ঞা করেন- বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না। এমনকি সেদিনের ঘটনায় ভেঙে যাওয়া হাঁড়ি-কড়াই এখনও সযত্নে রেখেছেন তিনি। ওইদিন সুভাষের বাড়ি ছাড়াও গ্রামের সাতজন বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছিল।
সুভাষের স্ত্রী অঞ্জনা বর্মন বলেন, ‘সেদিনের ঘটনার পর কয়েকদিন কিছুই খাননি স্বামী। তারপর থেকে দুধ, রুটি, ফলমূল খেয়ে কোনওভাবে চালাচ্ছেন। কৃষিকাজ করায় খুব পরিশ্রম হয় ওঁর। আমরা ভাত খেতে বলি, কিন্তু তিনি তঁার সিদ্ধান্তে অনড়।’ সুভাষের মন্তব্য, ‘ভোট এলেই আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। ২০১৬ সালে তৃণমূলের এক নেতার নেতৃত্বে আমাদের বাড়ি ভাঙচুর ও লুট হয়েছিল। দুপুরের রান্না করা ভাত খেতে পারিনি। হাঁড়ি ভেঙে গোটা বাড়িতে ভাত ছড়িয়ে দিয়েছিল ওরা। আর তা দেখে সেদিন চোখের জল ফেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন বিজেপি (BJP) বাংলায় ক্ষমতায় আসবে না, ততদিন ভাত খাব না। এবার আমার স্বপ্ন পূরণ হল। ৯ মে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর শপথের দিন গ্রামের লোকজনকে ডেকে অনুষ্ঠান করেই ভাত খাব।’
বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের এক নেতার মন্তব্য, ‘কারও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কিছু বলব না। ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা ভাত না খেয়েও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। তবে কেউ যদি বলে রাজ্যে বিজেপি সরকার এলে তবেই ভাত খাবেন, তাহলে তা পাগলামি ছাড়া কিছু না।’

