উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সমস্ত স্মার্টফোনে সরকারি অ্যাপ ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi) থাকা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করার পরই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এরই মাঝে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া (Jyotiraditya Scindia) জানান, এই অ্যাপ স্মার্টফোনে থাকা বাধ্যতামূলক নয়, এটা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। তবে এবার ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
স্মার্টফোনে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকলে এর মাধ্যমে জনসাধারণের উপর সরকার নজরদারি চালাতে পারে বলে অভিযোগ করেছিল বিরোধীরা। এমনকি অতীতের পেগাসাস বিতর্কও টেনে আনা হয়েছিল। তবে বিরোধীদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি চালানো (Snooping) কোনওভাবেই সম্ভব নয়। বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘সঞ্চার সাথী অ্যাপ দিয়ে নজরদারি সম্ভব নয়, আর কোনওদিন হবেও না।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র অ্যাপ ফোনে থাকলেই তা চালু হবে না। জনসাধারণের অধিকার রয়েছে এই অ্যাপ তাঁরা ব্যবহার করবে কিনা তাঁর উপর।’ তিনি এও উল্লেখ করেন, সরকার জনগণের হাতে ক্ষমতা দিতে চায়, যাতে তাঁরা নিজেদের রক্ষা করতে পারেন। সেই জন্যই এই অ্যাপটি স্মার্টফোনে ইনস্টল করতে বলা হয়েছিল। এই অ্যাপ নিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হতে পারে বলেও জানান জ্যোতিরাদিত্য।
উল্লেখ্য, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং টেলিকম প্রতারণা মোকাবিলায় সম্প্রতি ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্র। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, দেশের সমস্ত মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে স্মার্টফোনে সরকারি অ্যাপ ‘সঞ্চার সাথী’ আগে থেকে ইনস্টল করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যে মোবাইলগুলি ইতিমধ্যেই বাজারে এসে গিয়েছে, সেগুলিতেও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ওই সরকারি অ্যাপটি প্রবেশ করানোর কথা বলা হয়েছিল। যা নিয়ে আপত্তি তোলেন বিরোধীরা। এবার এই অ্যাপ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগের বিষয়গুলি স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

