উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর (Ayatollah Khamenei) প্রয়াণে মোদি সরকারের ‘রহস্যময় নীরবতা’ নিয়ে কড়া ভাষায় সরব হলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেত্রী সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। একটি ইংরেজি দৈনিকে লেখা কলমে তিনি বর্তমান সরকারের এই অবস্থানকে ‘পলায়নমনোবৃত্তি’ ও ‘সুবিধাবাদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। সোনিয়ার মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের এই নিস্পৃহতা কোনোভাবেই ‘নিরপেক্ষতা’ নয়, বরং ভারতের চিরাচরিত বিদেশনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে।
সোনিয়া গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারকে ইতিহাসের পাঠ দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতের (India) সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক কেবল কৌশলগত নয়, বরং প্রাচীন সভ্যতার টান। তিনি ১৯৯৪ সালের একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যখন রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনতে ওআইসি (OIC) মরিয়া ছিল, তখন ইরানই ভারতকে বড় রক্ষা কবচ দিয়েছিল। তেহরান সেই সময় ভারতের পাশে না দাঁড়ালে কাশ্মীর ইস্যুটি আন্তর্জাতিক স্তরে দিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারত। এছাড়াও জহেদানে ভারতের উপস্থিতি ও পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের স্বার্থ রক্ষায় ইরানের সহযোগিতার কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
গত ১ মার্চ খামেনেই-এর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে আমেরিকার ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে, তখন ভারতের নীরবতাকে বিঁধেছেন সোনিয়া। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রধানকে এভাবে হত্যার পরও কেন ভারত সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে সওয়াল করছে না? প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনকেও তিনি কটাক্ষ করেন। সোনিয়া বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ২০০১ সালে ইরান সফরের মাধ্যমে যে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি করেছিলেন, বর্তমান বিজেপি সরকার তা বিস্মৃত হয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত কোটি কোটি ভারতীয়র নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে সোনিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত যদি আজ অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চুপ থাকে, তবে আগামী দিনে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলি ভারতের ওপর আস্থা হারাবে। তাঁর সাফ কথা, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ কেবল স্লোগান নয়, এটি ন্যায়বিচার ও সংলাপের অঙ্গীকার। আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ভেঙে পড়ার মুহূর্তে ভারতের এই মৌন থাকাকে তিনি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ হিসেবেই দেখছেন।

