উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ঋতু পরিবর্তন হোক বা ধুলোবালি— গলাব্যথার সমস্যায় আমরা কমবেশি সকলেই ভুগি। আর এই কষ্ট থেকে চটজলদি মুক্তি পেতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক, বিশেষ করে ‘অ্যাজিথ্রোমাইসিন’ জাতীয় ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই অভ্যাস আপনার শরীরের কতটা মারাত্মক ক্ষতি করছে? চিকিৎসকদের মতে, এই প্রবণতা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করছে (Sore Throat Antibiotics)।
ভাইরাস বনাম অ্যান্টিবায়োটিক
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শ্বাসনালিতে সংক্রমণের মূলে থাকে ভাইরাস। আর বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, অ্যান্টিবায়োটিক কেবল ব্যাকটিরিয়া ধ্বংসে কার্যকর, ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কোনও ভূমিকা নেই। ফলে ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে কোনও লাভ তো হয়ই না, উলটে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতির বহর: নষ্ট হচ্ছে উপকারী ব্যাকটিরিয়া
আমাদের অন্ত্রে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটিরিয়া থাকে যা হজম ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে সেই সব ভালো ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। এর ফলে:
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স: ভবিষ্যতে শরীর বড় কোনও রোগে আক্রান্ত হলে তখন আর সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করতে চায় না।
আইবিএস (IBS): ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের মতো জটিল পেটের রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সুস্থ হয়ে উঠবেন কীভাবে?
গলাব্যথা হলে কড়া ওষুধের পেছনে না ছুটে শরীরের বাড়তি যত্নের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত সেরে উঠতে যা করবেন:
প্রোবায়োটিক: রোজের খাদ্যতালিকায় দই বা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
গার্গেল: দিনে অন্তত দু-তিনবার নুন-জল দিয়ে গার্গেল করা অব্যর্থ দাওয়াই।
ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন: এটি শ্বাসনালির অস্বস্তি কমায়।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: ভাইরাল সংক্রমণে শরীরকে সেরে ওঠার সময় দেওয়া প্রয়োজন।
চটজলদি আরাম পেতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী রোগ ডেকে আনবেন না। গলাব্যথা যদি তীব্র হয় বা না কমে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সব রোগ কড়া ওষুধে নয়, সঠিক যত্নেই সারে।

