উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। মঙ্গলবার এক আইনজীবী বিহারের এসআইআর মামলার শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গের বিষয়টির প্রতি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সেই আবেদন মঞ্জুর না করে জানিয়ে দেন, আগামী সোমবার অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই এই মামলার শুনানি হবে।
গত সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও ভোটার হেনস্থার অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রথাগত পদ্ধতির বদলে সমাজমাধ্যম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (বিএলও) নির্দেশ দিচ্ছে।
সিব্বল আরও দাবি করেন, তথ্যের অসঙ্গতির (Logical Discrepancy) দোহাই দিয়ে বহু সাধারণ ভোটারকে অযৌক্তিক ভাবে চিহ্নিত করে শুনানির জন্য তলব করা হচ্ছে, যা জনমানসে ভীতি তৈরি করছে। সোমবারের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় চাওয়া হলেও, আদালত গুরুত্ব বুঝে মাত্র এক সপ্তাহ সময় দেয়।
রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। গঙ্গাসাগরের মেলা প্রাঙ্গণ থেকে তিনি সরব হয়েছিলেন সাধারণ মানুষের ‘হেনস্থা’ নিয়ে। মঙ্গলবারও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় যে, রাজ্যে এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অন্তত ছ’টি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঁচটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটাররা শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিলেও তাঁদের কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সঠিক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সরব হয়েছেন।
তৃণমূলের দাবি, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কমিশনকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ১৯ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানিতে নির্বাচন কমিশন কী হলফনামা জমা দেয় এবং শীর্ষ আদালত ভোটারদের ‘হয়রানি’ রুখতে কী নির্দেশ দেয়, এখন সেটাই দেখার।

