Vishwakarma Puja | ফিরেছে বিশ্বকর্মাপুজোর জৌলুস

শেষ আপডেট:

অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: অনেক আগে শহরে হাতেগোনা কয়েকটা দোকান, গ্যারাজ এবং সরকারি অফিসে বিশ্বকর্মাপুজোর (Vishwakarma Puja) একটা আলাদা জৌলুস ছিল। কিন্তু বছর দশেক আগে শহরের বিভিন্ন গ্যারাজ এবং অফিসে ধীরে ধীরে পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই জৌলুস অনেকটা ফিকে হতে শুরু করে। গত পাঁচ বছরে বিশ্বকর্মাপুজোর জৌলুস অনেকটা ফিরে এসেছে। এর পেছনে প্রতিটি পাড়ার মোড়ে দোকান, গ্যারাজ খোলায় এবং বিশেষ করে টোটোর সংখ্যা বাড়ায় পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। আদরপাড়ার টোটোচালক শম্ভু রায় বলেন, ‘এই টোটো আমাদের ভাত জোগায়। তাই প্রতিবছর টোটো পুজো দিতাম কোনও না কোনও গ্যারাজে গিয়ে। কিন্তু এখন আমরা শান্তিপাড়ার একটা গ্যারাজের সামনে ওই দোকানদার আর ১০-১২ জন চালক মিলে পুজো করি। পিকনিক করি।।’

দু’সপ্তাহ মাত্র বাকি বিশ্বকর্মাপুজোর। শহরের রাস্তায় বের হলে তার প্রস্তুতি স্পষ্ট। কোথাও ধোয়ামোছা শুরু, কোথাও আবার সদস্যদের থেকে চাঁদা তোলার তোড়জোড়। পুজোর পর পিকনিকের মেনুতে কী কী থাকবে, সেটাও আলোচনার বাইরে না। জলপাইগুড়ি বাস টার্মিনাসগুলো ছাড়াও সরকারি অফিস থেকে গ্যারাজ, সব জায়গাতেই চোখে পড়ল জোর প্রস্তুতি।

শহর কিংবা শহর ঘেঁষা অঞ্চলে সেরকম কোনও বড় কলকারখানা না থাকলেও ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচশোর বেশি গ্যারাজ এবং মোটর পার্টসের দোকান রয়েছে। আর সেখানে পুজোর প্রস্তুতি থেকে মণ্ডপ, প্রতিমার সাজসজ্জা, প্রতিমা বিসর্জন সবকিছুতেই মুখ্য ভূমিকা নেন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা। এবারও তাঁদের উৎসাহে কমতি নেই।

বর্তমানে এই তিস্তাপারের শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে কমপক্ষে ১ হাজারটি পুজো হচ্ছে। দোকান, গ্যারাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং স্ট্যান্ডের ভেতরেও বিশ্বকর্মাপুজোর আয়োজন করা হয়। বাস কনডাক্টর বীরেন রায় বলেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বকর্মাপুজো একটি বড় উৎসব। সারাবছর কঠোর পরিশ্রমের পর বছরে দুই-একটা দিন আমরা এই পুজোয় প্রাণ খুলে আনন্দ করি।’ গ্যারাজকর্মী বাবাই দাসের বক্তব্যও একইরকম।

এদিকে, পুজোর প্রস্তুতি শুধু আয়োজকদের নয়, যিনি পুজো করবেন তাঁরও। শহরের পুরোহিত গণেশ চক্রবর্তী আপাতত পাঁচটা পুজো করার বরাত পেয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এক পুজো থেকে আরেক পুজোয় যাওয়ার সময় প্রতিবছর দুই-তিনটে পুজো বাড়তি করতে হয়। সেভাবেই সময় দিয়েছি বড় পুজোর উদ্যোক্তাদের। এবারও সেরকমটাই হবে বলে মনে করছি।’

শিল্পকর্মের দেবতাকে যাঁরা আকৃতি দেন, তাঁরাও এই সময় ভালোই খাটেন। শহরের মৃৎশিল্পী হিরেন পাল বলেন, ‘দুর্গা প্রতিমার চেয়ে বিশ্বকর্মার মূর্তির চাহিদা এখন অনেক বেশি। তাই মূর্তির জোগান দেওয়া রীতিমতো চ্যালেঞ্জ।’

আরেক মৃৎশিল্পী মাধব শীল জানালেন, তিনি ১২টি বিশ্বকর্মার মূর্তির অর্ডার পেয়েছেন। তবে ২০টার মতো বিভিন্ন আকারের মূর্তি তৈরি রয়েছে। গতবছর পুজোর আগে রদিন এসে অনেকে প্রতিমা খুঁজেছিলেন। কিন্তু তৈরি না থাকায় দিতে পারেননি। এবার যাতে সেরকম না হয়, তাই আগে থেকেই প্রস্তুত তিনি।

Shahini Bhadra
Shahini Bhadrahttps://uttarbangasambad.com/
Shahini Bhadra is working as Trainee Sub Editor. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Online. Shahini is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

Teesta treaty | তিস্তা চুক্তি নিয়ে ‘ইউ-টার্ন’ বিজেপির? উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার যুক্তিতে একমত সেচ দপ্তর

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: মমতার সুরেই উত্তরের বিজেপি নেতারা চাইছেন...

Jalpaiguri | কেন বিজেপিকে ভোট? বাসিন্দাদের শাসানোর অভিযোগে শ্রীঘরে তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী, মিলল জামিন

জলপাইগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনে (WB Election Result 2026) ওয়ার্ডের বাসিন্দারা...

John Barla | তৃণমূলে থেকেও ‘নিষ্ক্রিয়’ বারলা! উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে কি ফের নতুন সমীকরণ?

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায়...

Khageswar Roy | ‘যে আদা খাবে তার ঝাল লাগবেই’, নিজের দলের নেতাকেই বিঁধলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর

রাজগঞ্জ: রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের পরামর্শ দাতা...