নকশালবাড়িঃ ভারত-নেপাল সীমান্তের নক্সালবাড়িতে গোরু পাচারকারীদের (Cattle Smuggling) তাড়া করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ল ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের এসএসবি (SSB) জওয়ানেরা। কর্তব্যরত জওয়ানদের পিষে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল পাচারকারীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দুই এসএসবি কনস্টেবল গুরুতর জখম হয়েছেন। তবে নকশালবাড়ি পুলিশের সহযোগিতায় শেষরক্ষা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ১৯টি মোষ এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাচারচক্রের মূল পাণ্ডাসহ মোট তিনজনকে।
রবিবার গভীর রাতে এসএসবি-র পানিট্যাঙ্কি সি-কোম্পানির কাছে খবর আসে যে, নকশালবাড়ি থেকে শিলিগুড়ির দিকে একটি আইশার ডিসিএম (Eicher DCM) গাড়িতে করে গবাদি পশু পাচার করা হচ্ছে। রাত ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ এশিয়ান হাইওয়ে-০২-এর টোল প্লাজার কাছে সন্দেহভাজন গাড়িটিকে (AS-01-TC-4742) থামানোর নির্দেশ দেয় এসএসবি-র টহলদারি দল। কিন্তু গাড়িটি না থেমে টোল গেট ভেঙে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে।
এরপরেই পাচারকারীদের তাড়া করতে শুরু করে এসএসবি-র কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। অভিযোগ, পালানোর সময় পাচারকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসএসবি-র গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। জওয়ানদের গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দু’জন কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। তবে নকশালবাড়ি পুলিশের সহায়তায় ধাওয়া করে শেষ পর্যন্ত ঘাতক গাড়িটিকে আটক করা সম্ভব হয়। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে ১৯টি মোষ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে চালক নজরুল ইসলাম (অসমের বাসিন্দা) এবং খালাসি মহম্মদ মনোজমকে (নক্সালবাড়ির বাসিন্দা) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এই পুরো পাচারচক্রের নেপথ্যে রয়েছে বিমান ঘোষ। পালানোর সময় বিমানকেও গ্রেপ্তার করে এসএসবি। জেরায় বিমান স্বীকার করেছে যে, নক্সালবাড়ি থেকে অসমে গবাদি পশু পাচারের ছক ছিল তার। এমনকি গ্রেপ্তার এড়াতে সে-ই চালককে নির্দেশ দিয়েছিল এসএসবি-র গাড়িতে ধাক্কা মেরে জওয়ানদের মেরে ফেলতে।
এসএসবি-র পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া মোষ, পাচারকাজে ব্যবহৃত গাড়ি এবং ধৃত তিনজনকে নক্সালবাড়ি থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে গবাদি পশু পাচার ছাড়াও খুনের চেষ্টা (Attempt to Murder) এবং সরকারি কর্মীকে কর্তব্যে বাধা ও আঘাত করার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। জখম জওয়ানদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

