রামপ্রসাদ মোদক, রাজগঞ্জ: এক বছর সাত মাসেই শিক্ষকতার জীবন শেষ হয়ে গেল অনামিকার। আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শিক্ষকতার কাজে যোগদানের অধিকার পেয়েছিলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা অনামিকা রায়। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজগঞ্জের হরিহর উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৫-এর এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে সেই চাকরিজীবনে ইতি পড়ল।
২০১৬-র এসএসসি মামলার (SSC Recruitment Case) সূত্রপাত রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর নিয়োগকে ঘিরে। অনৈতিকভাবে যোগ্যদের টপকে তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন আরেক চাকরিপ্রার্থী ববিতা সরকার। আইনি লড়াইয়ের পর মন্ত্রীকন্যার চাকরি বাতিল করে ববিতা সরকারকে শিক্ষকতার কাজে যোগদানের নির্দেশ দেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপরেই আসরে নামেন অনামিকা। আদালতকে ববিতা ভুল তথ্য দিয়েছেন এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। দ্বিতীয় দফায় আইনি লড়াইয়ের পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ই ববিতার চাকরি বাতিল করে অনামিকাকে ওই পদে নিয়োগের রায় দেন।


হাইকোর্টের নির্দেশের চার মাস পরে রাজগঞ্জের হরিহর উচ্চবিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেছিলেন অনামিকা। কিন্তু এক বছর সাত মাস শিক্ষকতার জীবন কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আবার কালো মেঘ অনামিকার জীবনে। বৃহস্পতিবার অনামিকা রায় বলেন, ‘সামান্য কিছু অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর জন্য সবাইকে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। এই রায়ের ফলে সমাজের সবাই ভাববে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাই অযোগ্য হিসাবে চাকরি পেয়েছে।
আশা করেছিলাম যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা রেহাই পাবেন এবং অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি বাতিল হবে। আমি এরকম রায়ে হতাশ।’ তাঁর প্রশ্ন, যদি অযোগ্যদের চিহ্নিত করা হয়ে থাকে তাহলে তাঁদের সঙ্গে কেন যোগ্যদের চাকরি বাতিল করা হল?

