ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: গত চার মাস ধরে সাম্মানিক পাচ্ছেন না শিশুশিক্ষাকেন্দ্রের (এসএসকে) সহায়ক, সহায়িকারা। সম্প্রসারকদের অবস্থাও একই। এই অবস্থায় অনেকে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। অনেকে আবার চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। এসএসকে কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চিঠি, স্মারকলিপি দেওয়ার পরেও সাম্মানিক মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে পঠনপাঠন বন্ধ রেখে বকেয়া সাম্মানিক আদায়ের দাবিতে বড় আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। এসএসকে কর্মীদের হুঁশিয়ারি, সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগে বকেয়া সাম্মানিক না পেলে ভোটে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) পুরসভা বাদে জেলায় কয়েকশো শিশুশিক্ষাকেন্দ্র (এসএসকে) রয়েছে। এর মধ্যে ফালাকাটা পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ১৪টি এসএসকে এবং ১টি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র (এমএসকে) রয়েছে। এদিকে, জেলার অন্য জায়গার তুলনায় ফালাকাটা পুরসভায় এসএসকে সহায়ক, সহায়িকারা বেশি সমস্যায় রয়েছেন বলে অভিযোগ। কেন-না, ফালাকাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থাকাকালীন নির্দিষ্ট সময়ে সাম্মানিক পেলেও, সাড়ে তিন বছরে আগে ফালাকাটা পুরসভা গঠন হওয়ার পর থেকে এসএসকে কর্মীদের সাম্মানিক পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। তাছাড়া গ্রামীণ এলাকার থেকে সাম্মানিক কম পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ।
এসএসকের সহায়িকা হিসাবে কর্মরত পারুল বিশ্বাস বললেন, ‘বাড়িতে স্বামী অসুস্থ, ছোট বাচ্চা রয়েছে। সংসারে আমিই একমাত্র উপার্জন করি। কিন্তু চার মাস ধরে সাম্মানিক পাচ্ছি না। তাই এখন স্বামীর ওষুধ টাকা ধার করে কিনতে হচ্ছে।’ আর এক সহায়িকা আরতি রায়ের কথায়, ‘বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এখনও স্কুল খুলে রাখছি। নিয়মিত পঠনপাঠন জারি রেখেছি।’
এদিকে আলিপুরদুয়ার জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যতদূর জানি রাজ্যজুড়ে একই অবস্থা। জেলার সমস্যার বিষয়টি রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন সহায়ক কর্মী ইউনিয়নের আলিপুরদুয়ার জেলা সভানেত্রী মঞ্জু তেওয়ারির বক্তব্য, ‘আমরা জানতে পেরেছি প্রশাসনিক গেরোয় সাম্মানিক আটকে রয়েছে। চার মাস ধরে কঠিন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। বকেয়া সাম্মানিকের দাবিতে কয়েকদিনের মধ্যে বড় আন্দোলনে নামব।’

