রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: ভারী বৃষ্টিতে (Heavy Rain) পাহাড়ের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। ঘটনার জেরে বন্ধ টয়ট্রেন (Toy Train) পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে জোরকদমে ধস সরিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাইন মেরামত করতে চাইছে রেল। রবিবারের মধ্যে কাজ শেষ করে সোমবারেই পরিষেবা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (Darjeeling Himalayan Railway)। লাগাতার বৃষ্টির কারণে পাহাড়ে একাধিক এলাকায় রাস্তা ধসে গিয়েছে (Landslide)। তাই আরও কিছুদিন টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখার জন্য রেলকে চিঠি দিল রাজ্য সরকার। প্রথমে কার্সিয়াংয়ের একজন পঞ্চায়েত সদস্য চিঠি দিলেও পরবর্তীতে দার্জিলিং সদরের মহকুমা শাসক ডিএইচআর ডিরেক্টর অরবিন্দকুমার মিশ্রকে চিঠি দিয়ে ট্রেন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন।
ধসে বিপর্যস্ত পথে ট্রেন চললে আরও বেশি ধসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এব্যাপারে কথা বলতে ডিএইচআর ডিরেক্টর একে মিশ্রর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন পরিষেবা সীমার বাইরে থাকায় বক্তব্য মেলেনি। তবে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে বলেছেন, ‘ধসের কারণে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রাজ্যের কোনও চিঠির প্রতিলিপি এখনও আমার কাছে পৌঁছায়নি।’
গত কয়েকদিনে গয়াবাড়ি, মহানদী, তিনধারিয়া, রংটং সহ একাধিক এলাকায় টয়ট্রেনের লাইনে ধস পড়েছে। লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় পাঁচ তারিখ থেকেই। সরকারিভাবে ৭ তারিখ পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধের কথা ঘোষণা করে ডিএইচআর। কিন্তু রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, সব জায়গা থেকে এখনও ধস সরানো সম্ভব হয়নি। তাছাড়া টানা বৃষ্টি পড়ায় রেলকর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারিভাবে টয়ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে বলে খবর।
এসবের মাঝে রাজ্যও রেলকে চিঠি দিয়ে পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছে। যতদিন না পর্যন্ত ধস সরিয়ে রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে, ততদিন অন্তত যেন ট্রেন চালানো না হয়, সেই আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু ডিএইচআর কিংবা রেলের তরফে এখনও রাজ্য সরকার কিংবা মহকুমা প্রশাসনকে ওই চিঠির উত্তর দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে একবার বিষয়টি নিয়ে রেলের বৈঠক হয়েছে বলে খবর। দার্জিলিং টয়ট্রেনের হেরিটেজ স্বীকৃতি থাকায় চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে হেরিটেজ কমিটির সঙ্গে আলোচনার পরেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

