সানি সরকার, শিলিগুড়ি: রাঙ্গাপানি স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। সিগন্যালিং ব্যবস্থা পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন ট্র্যাক বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুর্ঘটনা রোখা ও দূরপাল্লার ট্রেনগুলিকে যাতে দাঁড় করিয়ে রাখতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে রেল সূত্রের খবর। রাঙ্গাপানি স্টেশন সংলগ্ন বেসরকারি পণ্য টার্মিনাল নুমলিগড় রিফাইনারি সাইডিংয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমাসের দ্বিতীয়ার্ধেই রাঙ্গাপানি ইয়ার্ডের পাশাপাশি টার্মিনালের কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মার বক্তব্য, ‘সুরক্ষার মান এবং ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহণে গতি আসবে।’
১৭ জুন নিজবাড়িতে বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। এছাড়া সম্প্রতি লাইনচ্যুত হয়েছে মালগাড়িও। প্রতিটি ক্ষেত্রেই উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থায় ত্রুটি ধরা পড়ে। এর জেরেই পরিকাঠামো উন্নয়নে রেলের নজর বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তা সরাসরি স্বীকার করছেন না কোনও রেলকর্তা।
নিউ জলপাইগুড়ি জংশন (এনজেপি) ঢোকার মুখে অধিকাংশ যাত্রী যখন ব্যাগ গুছিয়ে ট্রেন থেকে নামার প্রস্তুতি নেন, তখনই প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে থমকে যায় ট্রেনের চাকা। প্রায়দিন রাঙ্গাপানি স্টেশনে দীর্ঘসময় আটকে থাকতে হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন অধিকাংশ যাত্রী। এনজেপিতে প্ল্যাটফর্ম খালি না থাকায় ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে মনে করেন অনেকেই। তবে ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখার অন্যতম কারণ হল, রাঙ্গাপানিতে পয়েন্ট ও ক্রসিংয়ের সমস্যা।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঙ্গাপানিতে একটি নতুন ট্র্যাক তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৫ এবং ৬ নম্বর লাইনে চারটি নতুন পয়েন্ট চালু করা হচ্ছে। উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে ক্রসিং ব্যবস্থার। এর ফলে ৫, ৬ এবং ৮ থেকে ১২ নম্বর লাইনের মধ্যে ট্রেনের ক্রসিংয়ে কোনও সমস্যা থাকবে না বলে রেল আধিকারিকদের বক্তব্য। কয়েকটি ক্ষেত্রে ইন্টারলকিংয়ের কাজ হবে বলেও জানা গিয়েছে।
সেইসঙ্গে সংলগ্ন নুমলিগড় রিফাইনারি সাইডিংয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নেও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এখানেও একটি নতুন ট্র্যাক তৈরির পাশপাশি পুরোনো লাইনের পরিবর্তন ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রের খবর, চলতি অর্থবর্ষের অগাস্ট পর্যন্ত বেসরকারি এই পণ্য টার্মিনালটিতে ১৫৮টি রেক লোডিং হয়েছে। তা থেকে রাজস্ব বাবদ রেলের কোষাগারে জমা পড়েছে ৪৭.৪০ কোটি টাকা। যা গত অর্থবর্ষের এই সময়কালের থেকে ৭৬.৪১ শতাংশ বেশি। টার্মিনালের পরিকাঠামো উন্নয়ন হলে রেকের লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা যেমন এড়ানো যাবে, তেমনই রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী রেলকর্তারা।

