নাগরাকাটা: রাত আটটা বাজলেই শুরু হয় সেই তাণ্ডব। চারিদিক শুনশান, অথচ হঠাৎ করেই বৃষ্টির মতো ঢিল (Stone Mystery) এসে পড়ছে বাড়ির টিনের চালে। গত এক সপ্তাহ ধরে নাগরাকাটার (Nagrakata) সুলকাপাড়া (Sulkapara) বাজার সংলগ্ন ফকিরধুরা গ্রাম যেন কোনো এক রহস্যময় ঘাতকের নিশানায়। এই ‘অদৃশ্য’ ঢিল বৃষ্টির জেরে গ্রামের একাধিক বাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়ে গিয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত হলেই এক অদ্ভুত আতঙ্ক গ্রাস করছে ফকিরধুরাকে। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল হকের দাবি, রবিবার রাতে বাড়িতে গাড়ি রাখতে গিয়ে তিনি দেখেন আচমকা ঢিল পড়তে শুরু করেছে। কোথা থেকে এই ঢিল আসছে, তা কারও মাথায় ঢুকছে না। নিজের দামী গাড়িটিকে বাঁচাতে তিনি এখন সেটি স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালের মাঠে রেখে আসছেন। একই অভিজ্ঞতা রুবেল হকেরও। তাঁর বাড়ির চালও এখন চালুনির মতো ফুটো।


সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে এলাকার পড়ুয়ারা। স্থানীয় ছাত্রী স্নেহা পারভিন জানায়, “রাত আটটার পর আর ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাই না। অনবরত ঢিল পড়ার শব্দে পড়াশোনায় মন বসানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।” শুধু ঘরবাড়ি নয়, রাস্তার লোকজনের গায়েও এসে পড়ছে সেই ঢিল।

রহস্য উদঘাটনে নাগরাকাটা থানার পুলিশ গ্রামে নজরদারি বাড়ালেও সমাধান মিলছে না। অন্ধকার গাছপালা বা ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে কেউ এই কাজ করছে কিনা, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আপাতত ফকিরধুরা গ্রামের বাসিন্দাদের রাত কাটছে আতঙ্কে, আর পুলিশের কপালে চিন্তার ভাঁজ—কারা এই ‘অদৃশ্য’ আক্রমণকারী?

