রামপুরহাটঃ টাকা দিলেই প্রবেশাধিকার মিলত তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহে। মন্দির চত্বরে হাজার হাজার পুণ্যার্থীদের ভিড় থাকলেও টাকার বিনিময়ে মন্দিরে পুজোর অনুমতি মিলতো। এই নিয়ে সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পুণ্যার্থীদের সঙ্গে বিবাদ লেগেই থাকতে মন্দির কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেশ কিছু নিয়মের বদল হয় তারাপীঠ মন্দিরে। কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের টাকার বিনিময়ে পুজো শুরু হয়েছে মন্দিরে। এই বিষয়টি নিয়ে জনমানসে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রামপুরহাট মহকুমা শাসক রাঠোর অশ্বিনী বাবুসিংহ বৈঠক করেছেন তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইতদের সঙ্গে। বৈঠকে মহকুমা শাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন পূর্বতন জেলা শাসকের নির্দেশকে কঠোরভাবে পালন করতে হবে। আগের নিয়মেই চলবে তারাপীঠ মন্দিরের পুজো। কোনও বিশৃঙ্খলা নয়, কোনও ‘টাকার খেলা’ নয়। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানে স্বস্তির নিঃশ্বাস পুণ্যার্থীদের।
প্রসঙ্গত, যত দিন যাচ্ছে তারাপীঠ রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের পুণ্যার্থীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন মন্দিরে। অভিযোগ, মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখে সেবাইতদের একাংশ মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মা তারার দর্শন এবং পুজো করাচ্ছেন। অন্যদিকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ পুণ্যার্থীদের। এতে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছিল বিশৃঙ্খলা ও ধাক্কাধাক্কি। অনেক সময় পুণ্যার্থীদের মারধরের অভিযোগও জমা পড়ছে প্রশাসনের কাছে। অব্যবস্থা দূর করতে পূর্বতন জেলাশাসক বিধান রায় চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে কিছু নিয়মকানুন বেঁধে দেন। সেই নিয়মে প্রথম এক ঘণ্টা সাধারণ লাইনের পুণ্যার্থীরা প্রবেশের সুযোগ পাবেন। বিশেষ লাইনের জন্য নির্দিষ্ট কুপন নেওয়া বাধ্যতামূলক। গর্ভগৃহে প্রবেশের পর বেরোনোর পথে আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। স্থানীয় পুণ্যার্থীরা প্রমাণপত্র দেখিয়ে পাবেন বিনামূল্যে ঢোকার বিশেষ পাশ। প্রশাসনের চাপে পরে মন্দির কমিটি ফের গর্ভগৃহে অঞ্জলি বা শৃঙ্গার পুজো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গর্ভগৃহের বাইরে মা তারার চরণে অর্পণ করতে পারবেন পুণ্যার্থীরা।
মহকুমা শাসক জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতি মাসে মন্দিরের শৃঙ্খলা নিয়ে রিভিউ মিটিং কড়া হবে। প্রতি মাসের ১ তারিখ মন্দির কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
পুণ্যার্থীদের অভিযোগ, তারাপীঠে নিয়ম তৈরি করা হয়, কিন্তু সেটা মানা হয় না। এর আগেও মন্দিরের গর্ভগৃহে পুজো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিষিদ্ধ ছিল মা তারার ছবি মোবাইল বন্দি করা। কয়েক মাস সেই নিয়ম পালন হলেও সেবাইতরাই সেই নিয়মভঙ্গ করেন। এখন দেখার নতুন মহকুমা শাসক কতদিন নিয়মের বন্ধনে রাখতে পারছেন তারাপীঠ মন্দিরকে।

