উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অধিকাংশ বাড়িতেই ছবিটা এক—বই খুললেই খুদের হাই ওঠে, না হলে মন পড়ে থাকে জানলার ওপাড়ে। কড়া শাসনেও অনেক সময় কাজ হয় না। বাস্তুবিদদের মতে, পড়ার ঘরের দেওয়াল এবং সেখানকার পরিবেশ শিশুর মানসিক বিকাশে সরাসরি অনুঘটকের কাজ করে। ঘরের সাজসজ্জায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই শিশুর একাগ্রতা ও সৃজনশীলতা আমূল বদলে যেতে পারে।
স্মৃতিশক্তি ও একাগ্রতা বাড়াতে যা করবেন: বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী, পড়ার ঘরের দেওয়ালে একটি বড় তোতাপাখির ছবি রাখা অত্যন্ত শুভ। শিশুর নজর বারবার এই ছবিতে পড়লে তার স্মৃতিশক্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া একঘেয়েমি কাটাতে দেওয়ালে উড়ন্ত পাখির ঝাঁকের ছবি দেওয়া যেতে পারে। ডানা মেলা পাখির ছবি বাচ্চার মনে গণ্ডি পেরিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন বুনে দেয় এবং তাকে সৃজনশীল করে তোলে।
উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে: শিশুর মন থেকে অলসতা কাটাতে কার্যকরী হলো সাতটি ছুটন্ত ঘোড়ার ছবি। এই ছবি উন্নতির প্রতীক যা মনের জড়তা কাটিয়ে নতুন উদ্যম জোগায়। পাশাপাশি, ঘরকে ইতিবাচক শক্তিতে ভরিয়ে দিতে সূর্যোদয়ের ছবি দারুণ কাজ করে। উদীয়মান সূর্য শিশুর মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়া অবচেতন মনে অনুপ্রেরণা জোগাতে দেওয়ালে স্বামী বিবেকানন্দ বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মণীষীদের ছবি রাখা আবশ্যিক।
কী বর্জন করবেন? পড়ার ঘরে যুদ্ধের ছবি, কান্নাকাটির দৃশ্য বা গ্ল্যামার জগতের চটকদার পোস্টার রাখা ঠিক নয়। এগুলি শিশুর মনকে বিক্ষিপ্ত করে এবং নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকি দেওয়ালে ঝুলে থাকা পুরনো ক্যালেন্ডার স্থবিরতার প্রতীক, যা উন্নতির পথ আটকায়। ঘর সাজানোর এই অতি সামান্য রদবদলই কিন্তু খুদের পড়ার অভ্যাস ও ফলাফলে ম্যাজিকের মতো পরিবর্তন আনতে পারে।

