নিতাই সাহা, শিলিগুড়ি: ভোট বড় বালাই! নির্বাচনি আবহে শহর থেকে শুরু করে মফসসল সর্বত্রই, বহুল প্রচলিত এই প্রবাদের প্রতিচ্ছবি নজরে আসছে। কোথাও ভোট প্রচারে বেরিয়ে গেরস্তের হেঁশেলে ঢুকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রান্না করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন, আবার কোথাও ভোটারদের মন পেতে প্রার্থীরা চা শ্রমিকদের সঙ্গে বসে পাতপেড়ে খাচ্ছেন।
তবে, শিলিগুড়ি (Siliguri) বিধানসভা আসনের এসইউসিআই (SUCI) প্রার্থী শাহরিয়ার আলম উলটো স্রোতে গা ভাসিয়েছেন। প্রার্থী হিসেবে ভোট প্রচারের ময়দানে ঝাঁপালেও ডাক্তার হিসাবে নিজের দায়িত্ব ভোলেননি এতটুকু। এখনও তিনি নিয়ম করে চেম্বারে বসছেন। গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে একের পর এক রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চলেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমজনতাকে পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে নিজের দায়িত্ববোধ ভুলে যাব, এটা হতে পারে না। সেক্ষেত্রে ভোট প্রচারের চেয়ে রোগীদের পরিষেবা দেওয়াটাই আমার মূল লক্ষ্য।’


পেশায় চিকিৎসক শাহরিয়ার আলমের জন্ম গঙ্গার ওপারে, মুর্শিদাবাদে। তাঁর স্কুল জীবন কেটেছে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে। পরবর্তীকালে ডাক্তারি পড়ার সুবাদে তিনি শিলিগুড়ি চলে আসেন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা শেষে সেখানেই চাকরি জীবনের শুরু। সেইসঙ্গে শিলিগুড়ির মাটিতেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়। এসইউসিআই-এর ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও, পরবর্তীতে দলের পূর্ণ সময়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সেইসঙ্গে সমাজসেবার কাজেও জড়িয়ে পড়েন। ২০২০ সালে তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ছেড়ে দেন। এরপর শিলিগুড়ির সুভাষপল্লি এলাকায় অলাভজনক সংস্থার অধীনে চেম্বার খুলে বসেন। ১০০ টাকার বিনিময়ে সেখানে সপ্তাহে তিনদিন রোগীদের পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। এছাড়া সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার জন্য একটি নার্সিংহোমে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি সময় দলের কাজে ব্যয় করেন। দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ২০২৪ সালে প্রথমবার প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলেন। লোকসভা নির্বাচনে সেবার তিনি ১৭০০ ভোট পান। তবে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। সেবার পরাজিত হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। দলের তরফে টিকিট পেয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন। আর পাঁচজন প্রার্থীর মতো তিনিও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। যদিও চিকিৎসকের দায়িত্ব ভুলে শুধু ভোটের প্রচারে গা ভাসাতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘আগে মানুষের সেবা, তারপর ভোটের প্রচার।’
আচ পাঁচটা রাজনৈতিক দলের মতো এসইউসিআই-এর তরফেও প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চলছে। তবে খোদ প্রার্থী অবশ্য সবসময় প্রচারে থাকতে পারছেন না। রোগী দেখে বাকি সময় তিনি দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচারে বের হচ্ছেন। প্রচার বলতে মূলত ছোট ছোট পথসভাতেই জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এলাকাভিত্তিক মিছিল করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে হাটে-বাজারে গিয়েও প্রচার চালানো হচ্ছে। আমজনতার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে লিফলেট। প্রচারের ফাঁকেই চলছে অর্থ সংগ্রহের কাজ। শাহরিয়ারের কথায়, ‘দল বিত্তশালী নয়। দলের কর্মীরা মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক পরিবারের সদস্য। তাই ভোটের খরচ তুলতে মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেকেই সাধ্যমতো সাহায্য করছেন। সেই অর্থেই আমরা ভোট প্রচারের কাজ সারছি। একটি পয়সাও যাতে অপচয় না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। তবে, টর্চের আলো জ্বালাতে অবশ্য কোনও কসুর রাখা হচ্ছে না।’
ভোট প্রচারে বেরিয়ে শাহরিয়ার আলম শিলিগুড়ির একাধিক সমস্যার কথা আমজনতার সামনে তুলে ধরছেন। সেইসঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপিকেও একহাত নিয়ে জোর প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি লড়াইয়ে শামিল হয়েছি। তবে জয় বা পরাজয় গৌণ বিষয়। মানুষের হয়ে দাবি আদায়ের লড়াইটা জারি থাকবে।’

