কল্লোল মজুমদার ও সিদ্ধার্থশংকর সরকার, মালদা ও পুরাতন মালদা: বিহারে সাফল্যের পর মালদা দখলে মরিয়া বিজেপি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শনিবার পুরাতন মালদার একটি বেসরকারি হোটেলে সাংগঠনিক বৈঠক করে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুনীল বনসল। আদপে মালদায় জেতা আসনগুলি ধরে রাখাই যে চ্যালেঞ্জ, সে কথা মাথায় রেখেই এদিনের বৈঠক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মালদায় ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪টিতে বিজেপি জয় পেয়েছিল। তবে মহানন্দা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। ফলে আগামী বছর মালদায় পদ্মের চাষ সফল করতে কোমর কষে নেমেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তবে এসবের মাঝে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের নাম জড়িয়ে যাওয়া নিয়ে এদিন তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির সাংসদ সুকান্ত। শনিবার মালদা এসে চার সাংগঠনিক জেলার কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাবার সময় হয়ে এসেছে, আরও কিছুদিন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার চলে, তাহলে পাড়ায় পাড়ায় উগ্রপন্থী দেখা যাবে। রাজ্য সরকার দুয়ারে উগ্রপন্থী প্রকল্প চালু করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগেই সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছিলাম, ভারতবর্ষের যে কোনও প্রান্তে বিস্ফোরণ হোক না কেন, পশ্চিমবাংলার নাম জড়াবেই। তাই দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে বাংলার নাম জড়িয়ে যাওয়া নিয়ে আমি অবাক নই। এখন দিল্লিতে বিস্ফোরণ হচ্ছে, এরপর মালদায় হবে, মিউনিসিপ্যালিটির সামনে হবে, আপনার বাড়ির সামনে বিস্ফোরণ হবে। আসলে মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া সব জায়গাতেই জঙ্গিদের আখড়া হয়ে গিয়েছে।’
গৌড়বঙ্গের চার সাংগঠনিক জেলা উত্তর মালদা, দক্ষিণ মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা সুনীল বনসল। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, খগেন মুর্মু, চার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সহ দলীয় কার্যকর্তারা। শনিবার ছিল বিপ্লবী বিরসা মুন্ডার জন্মদিন। সভা শুরুর আগে বিজেপি নেতারা বিরসা মুন্ডার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। এরপর শুরু হয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক। সভায় ঢোকার আগে সমস্ত নেতার মোবাইল জমা নিয়ে নেওয়া হয়। একটি সূত্র জানাচ্ছে, এদিনের বৈঠকে আসন্ন বিধানসভার আগে দলীয় নীতি যেমন ঠিক করা হয়, তেমনই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়েও আলোচনা করা হয়। তবে সবকিছুই করা হয়েছে গোপনভাবে।
সুকান্ত বলেন, ‘তৃণমূল নামে কালসর্প যতদিন থাকবে, ততদিন পশ্চিমবঙ্গের এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে। তৃণমূল হল জঞ্জাল। এই জঞ্জালকে ঝাড়ু মেরে ঝাঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।’

