উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। এই গরমে মানুষের মতো হাঁসফাঁস অবস্থা গাছেরও। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বাগান করেন, তাঁদের বড় চিন্তা নিয়মিত জল দেওয়া নিয়ে। কয়েক দিনের জন্য বাড়ি ছেড়ে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বাগানের মায়া ত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, কোনো দামী প্রযুক্তি ছাড়াই সাধারণ ‘খড়ের মালচিং’ পদ্ধতিতে আপনার অনুপস্থিতিতেও গাছ থাকবে সজীব ও প্রাণবন্ত।
কী এই মালচিং?
মালচিং হলো এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, যেখানে গাছের গোড়ার মাটি কোনো জৈব বা অজৈব উপাদান দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বাড়ির টবের ক্ষেত্রে খড় বা শুকনো পাতা হলো আদর্শ জৈব মালচ। টবের ওপর খড়ের পুরু আস্তরণ বিছিয়ে দিলে মিলবে তিন ধরনের বিশেষ সুরক্ষা:
১. আর্দ্রতা ধরে রাখা: টবে জল দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোদের তাপে তা বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়। কিন্তু খড়ের মালচিং মাটির ওপর এক ধরণের প্রতিবন্ধক তৈরি করে, যা জলকে বাষ্পীভূত হতে বাধা দেয়। ফলে মাটি দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকে এবং গাছ তার প্রয়োজনীয় জল শুষে নিতে পারে।
২. তাপ নিয়ন্ত্রণ: খড় মূলত তাপরোধী। এটি বাইরের তীব্র গরমকে সরাসরি মাটির সংস্পর্শে আসতে দেয় না। ফলে মাটির ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। মাটির নিচের উপকারী অণুজীব এবং শিকড় প্রবল গরমের হাত থেকে রক্ষা পায়, যার ফলে গাছ শুকিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
৩. আগাছা দমন: টবের মাটি বেশ কয়েকদিন পরিষ্কার না করলে তাতে আগাছা জন্মায়, যা মূল গাছের পুষ্টি শুষে নেয়। খড়ের বর্ম মাটির ওপর সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছাতে দেয় না, ফলে অপ্রয়োজনীয় আগাছা জন্মানোর সুযোগ পায় না। এতে গাছের পুষ্টি বজায় থাকে এবং আগাছা ছাঁটার ঝক্কিও কমে।
বিশেষ টিপস: বাইরে যাওয়ার আগে টবগুলোতে ভালো করে জল দিয়ে ৩-৪ ইঞ্চি পুরু করে খড়ের আস্তরণ দিয়ে দিন। এতে অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন গাছ জল ছাড়াই সতেজ থাকতে সক্ষম হবে।

