গাজোল: এক ঝলক দেখার অপেক্ষায় প্রখর রোদ উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। একদিকে বাংলা সিনেমার সুপারস্টার দেবকে (Actor Deb) দেখার উত্তেজনা, আর অন্যদিকে এক বেলার ব্যবসা বন্ধের জেরে আর্থিক ক্ষতি— দুইয়ের টানাপোড়েনে শুক্রবার সরগরম ছিল গাজোল। তবে শেষমেশ ‘দীপক অধিকারী’র দর্শনে সেই ক্ষতি হাসিমুখে মেনে নিলেন বলরামপুর ও গাজোল হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরা।
তৃণমূল প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাসের (Prosenjit Das) সমর্থনে শুক্রবার বলরামপুর ফুটবল ময়দানে সভা করতে আসেন দেব। তাঁর হেলিকপ্টার নামার জন্য গাজোল হাই স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড বানানো হয়েছিল। ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের এই মাঠের পাশেই রয়েছে মুরগির মাংস, লটারি ও খাবারের অজস্র ছোট দোকান। হেলিকপ্টারের ডানার হাওয়ায় দোকানের প্লাস্টিকের ছাউনি উড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সকাল থেকেই সব খুলে ফেলা হয়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয় ব্যবসা। স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ী আখতারুল আনসারী ও মাজেদ আনসারীরা জানান, তৃণমূলের আবেদনে সাড়া দিয়ে তাঁরা দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। আর্থিক ক্ষতি হলেও দেবকে সামনাসামনি দেখে সেই আক্ষেপ মিটেছে তাঁদের।


বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ কপ্টার থেকে নেমে সোজা বলরামপুর মাঠে পৌঁছান দেব। সেখানে মাত্র সাত মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, “২০২১ সালে আপনারা অতটা ভালোবাসা দেননি বলে প্রসেনজিৎ জিততে পারেননি। কিন্তু ও গাজোলের জন্য ব্লাড ব্যাঙ্ক, বাস স্ট্যান্ড ও দমকল কেন্দ্র গড়তে চায়। ওকে জেতালে আমি আবার আসব।” পাশাপাশি তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিনি নিশ্চিত যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন এবং তৃণমূল দুশোর বেশি আসন নিয়ে সরকার গড়বে।
দেবকে ঘিরে উন্মাদনা থাকলেও সভার দু-ধারের ও পেছনের দর্শকরা তাঁকে ঠিকমতো দেখতে না পেয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাত্র ১০ মিনিট মাঠে থেকে দেব ফিরে যাওয়ায় অনেকের মনেই আক্ষেপ থেকে গেছে। তবে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সভা শেষে গাজোলের একটি ধাবায় চা পান করে ফের কপ্টারে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মেগাস্টার। এখন দেখার, গাজোলের এই ‘স্টার পাওয়ার’ ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

