উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পঞ্জাব ও হরিয়ানাতে ব্যাপকভাবে খড়বিচালি পোড়ানোর কারণে ভয়াবহ বায়ুদূষণের (Air Pollution) সম্মুখীন দিল্লি (Delhi)। দিনে দিনে মারাত্মক আকার নিচ্ছে এই দূষণ। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) তীব্র ভর্ৎসনা মুখে পড়ল কেন্দ্র। এদিন সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে (Centre) সাফ জানিয়ে দেয়, পরিবেশ সুরক্ষা আইন (Environmental Protection Act) সংশোধনের ফলে তা ‘শক্তিহীন’ হয়ে পড়েছে। তবে কেন্দ্রের তরফে শীর্ষ আদালতকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই এই আইনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে।
বুধবার শীর্ষ আদালতের তরফে বলা হয়, ‘আমরা কেন্দ্রকে একটা কাজ দিতে চাই। তারা কোনও পরিকাঠামো তৈরি করেনি। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনটি ‘শক্তিহীন’ হয়ে পড়েছে। আপনারা শাস্তি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইনটিকে জরিমানায় প্রতিস্থাপিত করেছেন ১৫ নম্বর ধারার সংশোধন করে।’ এদিকে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে যে, পঞ্জাব ও হরিয়ানা দুই রাজ্যেরই পরিবেশ সচিব এবং কৃষির অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরই পালটা জবাব দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়, ‘যদি এই দুই রাজ্যের সরকার এবং কেন্দ্র প্রথম থেকেই পরিবেশ রক্ষার জন্য গুরুত্ব সহকারে প্রস্তুত থাকত, তাহলে আইন সংশোধনের আগেই সবকিছু করা যেত। এটি পুরোটাই রাজনৈতিক, তাছাড়া আর কিছু নয়।’


প্রসঙ্গত, প্রতিবছরই শীত পড়ার আগে থেকে কমতে থাকে দিল্লির বাতাসের (Air quality) গুণমান। এবারও শীত শুরু হতে না হতেই দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে দিল্লিতে। শুধুমাত্র দিল্লি নয় নয়ডা, গাজিয়াবাদ সহ আশেপাশের এলাকাগুলিও লাল সংকেতের দিকে এগোচ্ছে। আগামী দিনে এই দূষণ আরও খারাপ আকার নেবে বলে আশঙ্কা করছে অনেকে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের বাজি উৎপাদন, বিক্রি এবং পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সরকারের তরফে। কিন্তু এর মধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা না মেনে খড়বিচালি পোড়ানোর ফলে দূষণ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই এই অভিযোগে হরিয়ানার কাইথালে ১৪ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

