উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশে পথকুকুরের (Stray Dog) কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারগুলোর ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court Stray Dog Case Ruling)। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পথকুকুরের কামড়ে কোনো শিশু বা প্রবীণের মৃত্যু হলে বা কেউ আক্রান্ত হলে, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে মোটা টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একইসঙ্গে কুকুরপ্রেমীদের উদ্দেশেও কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বিচারপতিরা।
এদিন শুনানির শুরুতে বিচারপতি বিক্রম নাথের বেঞ্চ রাজ্য সরকারগুলোর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে রাজ্যগুলো কার্যত কিছুই করছে না। আদালত সাফ জানিয়েছে, এরপর থেকে কুকুরের হামলায় কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায় বর্তাবে রাজ্যের ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দিতে রাজ্যকেই জরিমানা দিতে হবে।
শুনানি চলাকালীন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী যখন কুকুরপ্রেমীদের আবেগ ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন, তখন বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আবেগ কি শুধুই কুকুরদের জন্য? মানুষের জন্য নয়?” বিচারপতি নাথ স্পষ্ট বলেন, “যাঁরা পথকুকুরদের ভালোবাসেন এবং খাওয়ান, দায়ভারও তাঁদের নিতে হবে। কুকুর কেন রাস্তা অপরিষ্কার করবে বা মানুষকে কামড়াবে?” এমনকি কুকুরপ্রেমীদের পরামর্শ দিয়ে আদালত জানায়, প্রয়োজনে তাঁরা পথকুকুরদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখুন। মানুষের ভয় ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না।
গত ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং রেল স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকা থেকে কুকুর সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এদিন সেই নির্দেশের ব্যাখ্যায় তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, রাস্তা থেকে সব কুকুর অপসারণের কথা বলা হয়নি। মূলত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলো থেকে কুকুর সরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কুকুরের কামড়ের ক্রমবর্ধমান ঘটনা রুখতে রাজ্যগুলোকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

