উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটের মুখে ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক রায় (Supreme Court Verdict on Voters) দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বা দু’দিন আগে পর্যন্ত যদি কোনও ট্রাইবুনাল কোনও ভোটারকে ছাড়পত্র দেয়, তবে তিনি ভোট দিতে পারবেন। সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে এই বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে এই রায়ের কৃতিত্ব কার, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই রাজনৈতিক মহলে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এসআইআর (SIR) মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটারদের অধিকার যেন খর্ব না হয়, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। নির্দেশ অনুযায়ী:


- প্রথম দফার ক্ষেত্রে (২৩ এপ্রিল ভোট): ২১ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দিলে ওই ব্যক্তি ভোট দিতে পারবেন।
- দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে (২৯ এপ্রিল ভোট): ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ছাড়পত্র মিললে ভোটাররা বুথে যেতে পারবেন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট এও স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র আবেদন করলেই হবে না; ট্রাইবুনালে সেই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলতে হবে। ট্রাইবুনাল যদি কারও নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, তবে তিনি কোনওভাবেই ভোটাধিকার পাবেন না। এই রায়ের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বিচারব্যবস্থার প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন যে, তাঁর করা মামলাতেই এই সুফল মিলেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিআইএম। প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে আসল কারিগর মুর্শিদাবাদের এক সাধারণ গৃহবধূ তথা সিপিএম কর্মী মোস্তারি বানু।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, মোস্তারি বানুই প্রথম ভগবানগোলা থেকে এসে এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন এবং তাঁকে সামনে রেখেই বিকাশবাবুরা লড়াই শুরু করেন। যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রী এই মামলায় অংশ নেন এবং সশরীরে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করেন, কিন্তু আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল ওই গ্রাম্য গৃহবধূর হাত ধরেই।
মুখ্যমন্ত্রীর কৃতিত্বের দাবিকে কটাক্ষ করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই কথার জবাব দেওয়া মানে মিথ্যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা।’ তাঁর দাবি, আদালত যে এই ধরণের আদেশ দেবে, তা আগের শুনানিতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা যখন ট্রাইবুনালে উত্তীর্ণদের ভোটাধিকার দেওয়ার আর্জি জানান, তখনই আদালত সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারার ক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছিল। সব মিলিয়ে, আদালতের এই নির্দেশে বহু ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় ফেরার সুযোগ তৈরি হলেও, এই জয়কে নিজেদের পকেটে পুরতে আদাজল খেয়ে ময়দানে নেমেছে যুযুধান দুই পক্ষ। একদিকে শাসকের দাবি তারা মানুষের অধিকার রক্ষা করেছে, অন্যদিকে বামেদের দাবি লড়াইটা শুরু হয়েছিল সাধারণের ঘর থেকেই।

