উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কি রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন (Central Force Deployment) থাকবে? এই প্রশ্নের মীমাংসায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘সনাতন সংস্থা’ নামে একটি সংগঠন। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই বিষয়ে তারা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। অর্থাৎ, রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বাহিনী মোতায়েন থাকবে কি না, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী ভি গিরি একুশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবি জানান। পালটা সওয়ালে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, ভোট প্রক্রিয়া মিটে গেলে কমিশনের এক্তিয়ার বা ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। দু’পক্ষের সওয়াল শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মামলাকারী চাইলে এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।


তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের আগেই নির্বাচন কমিশন বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যে ভোট পরবর্তী সম্ভাব্য রাজনৈতিক অশান্তি ও হিংসা রুখতে আগামী ৬ মাস ৫০০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন থাকবে কলকাতায় (৪০ কোম্পানি)। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্যারাকপুর (২৮ কোম্পানি)। এছাড়া বীরভূম ও ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলাতেও মোতায়েন থাকবে ২০ কোম্পানির বেশি বাহিনী। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের কালিম্পংয়ে থাকছে সবথেকে কম মাত্র ১ কোম্পানি বাহিনী। জঙ্গলমহল ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। মূলত স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে শান্তি বজায় রাখতেই কমিশনের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পর এখন বল কলকাতা হাইকোর্টের কোর্টে থাকলেও, কমিশনের সিদ্ধান্তে আপাতত মোতায়েন থাকছে বাহিনী।

