রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: চাপের মুখে বুধবার পাঁচ বহিষ্কৃত পড়ুয়ার শাস্তি কমাল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কার নয়, ছয় মাসের জন্য অভিযুক্ত পাঁচ পড়ুয়াকে সাসপেন্ড করা হল। এদিন কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক ডেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, থ্রেট কালচারে অভিযুক্ত ওই পাঁচজনকে বৃহস্পতিবার দুপুর দুটোর মধ্যেই হস্টেল খালি করে দিতে বলা হয়েছে। ছয় মাস পর থেকে তাঁরা কলেজে পড়াশোনা করতে পারলেও আর হস্টেলে থাকতে পারবেন না। বুধবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টি জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডিন প্রফেসর ডাঃ অনুপম নাথ গুপ্তা। তাঁর বক্তব্য, ‘পড়ুয়ারা আমাদের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিল। সেই আবেদনমতো বুধবার ফের কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক হয়। সেখানেই তাঁদের শাস্তি বদল করা হয়েছে। ওঁরা আমাদের সন্তানের মতো।’
প্রশ্ন উঠেছে, বুধবার আগাম বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া থাকলে মঙ্গলবার রাতে কেন তড়িঘড়ি কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা হয়েছিল? তবে কি কারও চাপে মঙ্গলবার রাতে বৈঠক করতে হয়েছিল? এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেননি ডিন। পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতের ঘটনা আগে থেকেই স্ক্রিপটেড ছিল। অধ্যক্ষ সবটাই জানতেন বলে দাবি তাঁদের। যদিও অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা এদিন কোনও মন্তব্যই করতে চাননি। যে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে তীর্থঙ্কর রায়ের বক্তব্য, ‘আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে শুনেছি। কিন্তু কেন শাস্তি দেওয়া হয়েছে, আমার কী দোষ, সেই বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি আমাকে ডাকা বা আমার কাছে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি।’ যদিও ডিনের বক্তব্য সকলকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।


কলেজে থ্রেট কালচারের প্রতিবাদে গত ৪ তারিখ উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পড়ুয়াদের একাংশ অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। তৎকালীন ডিন সন্দীপ সেনগুপ্তকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষের কাছে বেশ কয়েকজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সোমবার কলেজ কাউন্সিলের বৈঠকে ইন্টার্ন, হাউস স্টাফের পাশাপাশি পাঁচজন আন্ডার গ্র্যাজুয়েট (ইউজি) পড়ুয়াকেও কলেজ থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে পড়ুয়াদের একটি দল। এই পাঁচজনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে এবং শাস্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে বলে দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে তড়িঘড়ি কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক ডেকে ওই পাঁচ পড়ুয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছিল কর্তৃপক্ষ। বলা হয়, অভিযুক্তদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হল। বুধবার কলেজ কাউন্সিলের পূর্ণ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিন সেই বৈঠকেই অভিযুক্তদের বহিষ্কারের বদলে ছয় মাসের জন্য সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিন্তু বুধবার কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক থাকলেও মঙ্গলবার মধ্যরাতে কেন ফের তড়িঘড়ি কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খোদ কলেজ কাউন্সিলেরই সদস্যদের দাবি, অধ্যক্ষ চাপের মুখে পড়ে বেশ কিছু কাজ করছেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে। কাউন্সিলের সদস্য তথা কলেজের মাইক্রোবায়োলজির প্রধান ডাঃ অরুণাভ সরকারের বক্তব্য, ‘এখানে নেপোটিজম হয়েছে, আর্থিক কেলেঙ্কারি রয়েছে। কলেজ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বদলাতে রাত একটায় এসে অধ্যক্ষকে থ্রেট করছে। আর মুখে বলছে আমরা কিন্তু থ্রেট করছি না।’

