উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার কয়লা পাচার মামলায় ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়ি ও আইপ্যাকের অফিসে ইডির (ED raid I-PAC) হানাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক ডাকাতি’ বলে সরব হয়েছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) একে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর রণংদেহি মেজাজ এদিন তল্লাশির খবর পেয়েই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন পুলিশ কমিশনার। সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-কে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “ইলেকশন সংক্রান্ত আমাদের গোপন নথি ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই এই হানা। বিজেপি দেশের সবথেকে বড় ডাকাত।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আমি যদি আজ বিজেপি অফিসে হানা দিই, তবে কেমন লাগবে?” এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ বিকেল ৪টেয় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল।
শুভেন্দুর তোপ ও পাল্টা অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে তীব্র কটাক্ষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনার কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন। এটি অনৈতিক ও অসাংবিধানিক।” তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে রাজীব কুমার ও ফিরহাদ হাকিমের বেলাতেও মুখ্যমন্ত্রী একই আচরণ করেছিলেন। শুভেন্দুর দাবি, “বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। ইডির উচিত মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা।” প্রতিহিংসার অভিযোগ উড়িয়ে শুভেন্দু পাল্টা বলেন, “আমার বাড়িতে সিআইডি পাঠিয়ে প্রবীণ বাবা-মাকে হেনস্তা করা হয়েছে, ওনার মুখে এসব কথা মানায় না।”
ইডির অবস্থান ও ইতিহাসের ছোঁয়া ইডির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে ফাইল ‘ছিনতাই’ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০১৯ সালে রাজীব কুমারের বাংলোয় সিবিআই হানার সময় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ধর্নায় বসেছিলেন, ৬ বছর পর আইপ্যাক কাণ্ডে তাঁর সশরীরে উপস্থিতি যেন সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আগে এই ঘটনা রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতকে এক চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল।

