উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শনিবার ব্রিগেড ময়দানে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ঠিক আগেই বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের রাস্তায় ঝরল রক্ত। দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath)। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং পেশাদার ঘাতকদের সুচারু মস্তিস্কের কাজ। ঘাতকদের শনাক্ত করতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে অভিযানে নেমেছেন সিআইডি-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে কাজ সেরে নিজের চারচাকা গাড়িতে করে ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথবাবু। সেই সময় আচমকা মধ্যমগ্রামের রাস্তায় তাঁর গাড়ির সামনে অন্য একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়। গাড়িটি থামতেই মুহূর্তের মধ্যে বাইকে চড়ে হাজির হয় দুই দুষ্কৃতী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন। এই হামলায় তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেড়াও গুরুতর জখম হন; তাঁর বুকের বাঁদিকের পাঁজরে গুলি লেগেছে। তড়িঘড়ি দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং চালককে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।


আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকার বাসিন্দা চন্দ্রনাথের শৈশব কেটেছে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের (Ramakrishna Mission) আদর্শে। মেধাবী এই তরুণ এক সময় ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিয়েছিলেন। তবে সেখানে বেশিদিন মন টেকেনি তাঁর। শোনা যায়, ছোট থেকেই তাঁর ঝোঁক ছিল আধ্যাত্মিকতার দিকে। বায়ুসেনার (AIR FORCH) চাকরি থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নিয়ে তিনি কিছুকাল একটি কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। চন্দ্রনাথের পরিবারও রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটা সময় পরিবারের সবাই তৃণমূলের সমর্থক হলেও, বর্তমানে তাঁর মা হাসি রথ বিজেপির সক্রিয় নেত্রী। ২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী যখন রাজ্যের মন্ত্রী, তখন থেকেই চন্দ্রনাথ তাঁর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে শুভেন্দুর বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর দপ্তরের সমস্ত প্রশাসনিক কাজ একহাতে সামলেছেন। রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, নতুন সরকার গঠিত হলে চন্দ্রনাথ কোনও বড় প্রশাসনিক দায়িত্ব পেতে পারেন।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীকে ভয় দেখাতেই তাঁর এই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে সুপরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দাবি, এর পিছনে স্থানীয় তৃণমূলের মদতপুষ্ট পেশাদার খুনিরা রয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল একে ‘বিজেপি-মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের কাজ’ বলে পাল্টা তোপ দেগেছে এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার পুষ্পা জানিয়েছেন, খুনে ব্যবহৃত ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শপথের ঠিক আগে এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

